উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অগ্নিমূল্য সামলাতে ফের বড়সড় কড়াকড়ির পথে হাঁটল পাকিস্তান সরকার (pakistan Govt)। জ্বালানি সংকট (gasoline disaster) ও বিপুল অর্থনৈতিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে ইসলামাবাদ প্রশাসন একগুচ্ছ জরুরি ও কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে (financial measures)। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমসুত্রে জানা গিয়েছে, শীতকালীন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার ফলে পাকিস্তানে পেট্রলের দাম ছাড়িয়েছে ৩৮০ পাকিস্তানি রুপি এবং ডিজেল পৌঁছেছে ৪০৯ পাকিস্তানি রুপিতে। এই পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে একপ্রকার আংশিক ‘স্মার্ট লকডাউন’ বা নিয়ন্ত্রণমূলক বিধি কার্যকর করা হল।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সমস্ত দোকানপাট, শপিং মল, বাজার এবং মুদি দোকান রাত নটার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কথা ভেবে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ল্যাব, পেট্রল ও সিএনজি পাম্প, ইভি চার্জিং স্টেশন, জিম, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, আইটি সংস্থা এবং কল সেন্টারগুলিকে। এছাড়া ক্যাফে, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলি রাত এগারোটা পর্যন্ত খোলা রাখা গেলেও নির্দিষ্ট সময়ের পরে শুধুমাত্র হোম ডেলিভারি ও টেক-অ্যাওয়ে পরিষেবা চালু থাকবে। অন্যদিকে, সামাজিক অনুষ্ঠান ও বিয়ের আসরগুলির ক্ষেত্রেও রাশ টেনে রাত দশটার মধ্যে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার নির্দেশ জারি হয়েছে।
শুধুমাত্র বাণিজ্যিক ক্ষেত্র নয়, সরকারি খরচ কমাতে এবং আমলাতান্ত্রিক ব্যয় সঙ্কোচনেও একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি গাড়ি কেনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি সরকারি যানবাহনে জ্বালানি বরাদ্দ সরাসরি ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জরুরি পণ্য পরিষেবা এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকছে। পাশাপাশি, সরকারি আধিকারিকদের আগামী তিন মাসের জন্য বিদেশ সফরের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি মিললেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে ‘ইকোনমি ক্লাস’-এ যাতায়াত করতে হবে।
সরকারি খরচে কোনো ধরনের অফিশিয়াল ডিনার আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যদিও বিদেশি অতিথিদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় থাকছে। এছাড়া সরকারি ব্যয় সার্বিকভাবে ৫ শতাংশ হ্রাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও একই রকম অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের জেরে স্কুল বন্ধ রাখা এবং বাড়ি থেকে কাজ করার মতো একাধিক জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল শাহবাজ শরিফ প্রশাসন। বর্তমান সংকট কতদিন স্থায়ী হয় এবং এই কড়া বিধি পরিস্থিতি সামাল দিতে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

