Pakistan | ইরান-মার্কিন যুদ্ধের জেরে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, দেউলিয়া হওয়ার পথে শাহবাজের দেশ!

Pakistan | ইরান-মার্কিন যুদ্ধের জেরে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, দেউলিয়া হওয়ার পথে শাহবাজের দেশ!

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী ইরান-মার্কিন সংঘাতের (US-Iran warfare) জেরে চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের (Financial fallout) মুখে পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। বুধবার ক্যাবিনেট বৈঠকে এই উদ্বেগের কথা জানান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif)। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, গত দুই বছরে পাকিস্তানের অর্জিত সমস্ত অর্থনৈতিক সাফল্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এই যুদ্ধ। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শরিফ জানান, যুদ্ধের আগে পাকিস্তানের মাসিক তেল আমদানির বিল যেখানে ছিল ৩০ কোটি ডলার, তা বর্তমানে লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ডলারে। এই বিপুল ব্যয় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ইসলামাবাদ। জ্বালানির টান ও অত্যধিক দামের কারণে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারও গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিশেষ ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠন করা হয়েছে, যারা প্রতিদিনের বাজারদর ও সরবরাহ পর্যবেক্ষণ করছে।

অর্থনৈতিক সংকট থেকে বাঁচতে সংঘাত থামাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। শাহবাজ শরিফের দাবি, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা ‘ম্যারাথন’ বৈঠক হয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। এই আলোচনার ফলেই দুই দেশ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে।

ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি পাকিস্তান সফর করেছেন। শাহবাজ শরিফ জানান, আরাগচি মস্কো ও মাস্কাট সফরের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টেলিফোনে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন, যাতে তেহরান শান্তির প্রস্তাব তৈরির পর্যাপ্ত সময় পায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার জেরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সহ শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। পাকিস্তান এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনার আয়োজন করে দ্রুত এই সংঘাত মেটাতে বদ্ধপরিকর, যাতে নিজেদের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে পুনরায় চাঙ্গা করা সম্ভব হয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *