রণজিৎ ঘোষ, দুধিয়া : দুঃস্বপ্নের প্রহর কাটছে ধীরে ধীরে। কিন্তু আতঙ্ক, আশঙ্কা এতটুকু কমেনি দুধিয়ায়। অবশ্য কমবেই বা কীভাবে, এই বিপর্যয় কি সহজে ভোলা যায়? বালাসনের গর্জন এখনও কানে বাজছে বাসিন্দাদের। পাহাড়ি নদীটির ধ্বংসলীলা তাঁদের চোখে ভাসছে। বিপর্যয়ের কবলে পড়ে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। বসতভিটে রয়েছে, নাকি নদী গিলেছে, সেটা বারবার এসে দেখে যাচ্ছেন তাঁরা।
প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ দুধিয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। পূর্ত দপ্তর ভাঙা সেতুর পাশে অস্থায়ীভাবে হিউমপাইপ বসিয়ে রাস্তা নির্মাণ শুরু করেছে এদিন। তবে, অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করে যানবাহন চলাচলে অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ধস মোকাবিলায় এদিন সকাল থেকে বালাসন নদীর ধার দিয়ে বোল্ডার এবং লোহার জালি বসাতে শুরু করেছে পূর্ত দপ্তর। এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে দুধিয়ার পরিস্থিতি দেখতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এদিন জানিয়েছেন, দুধিয়ায় সেনাবাহিনীর তরফে একটি বেইলি ব্রিজ তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
রবিবার ভোরে বালাসনে জলস্ফীতির কারণে মিরিকের লাইফলাইন ১২ নম্বর রাজ্য সড়কে থাকা লোহার সেতু ভেঙে বন্ধ হয়ে গিয়েছে যোগাযোগ। নদী লাগোয়া ৬০টি পরিবারের ঘরবাড়ির বেশিরভাগ বালাসনের গর্ভে। চাষের জমি গিলেছে নদী, একাধিক রিসর্টও ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে রবিবার দুপুরের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছে।
নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় সোমবার বালাসনে জলস্তর কিছুটা নেমেছে। গর্জনও কমেছে খানিকটা। এই পরিস্থিতিতে এদিন সকাল থেকে পূর্ত দপ্তর ভাঙা সেতুর বাঁদিকে অস্থায়ী রাস্তার কাজ শুরু করেছে। দপ্তরের আধিকারিরা জানিয়েছেন, নদীতে হিউমপাইপ বসিয়ে রাস্তা তৈরি করা হবে।
অন্যদিকে, বেইলি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনাবাহিনীও। রবিবার বিকেলে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সোমবারও সেনার তরফে এলাকায় মাপজোখ করা হয়েছে। এদিন দুধিয়ায় পৌঁছে রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী বেইলি ব্রিজ তৈরির আশ্বাস দিয়েছে।
দুর্যোগে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় রবিবার মধ্যরাত থেকে এখানে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে অন্ধকারেই কাটিয়েছেন বাসিন্দারা। এমনকি মোবাইল চার্জও দিতে পারেননি। এদিন সন্ধ্যা নাগাদ দুধিয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সন্তোষ তামাং বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার যেভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে তাতে আমরা খুশি। আশা করছি, দ্রুত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় মুখ্যমন্ত্রী দুধিয়ায় আসবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এদিন বিকেলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দুধিয়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
