মুর্শিদাবাদঃ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রেজিনগর সভার ঠিক আগে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পৌরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক ডামাডোল। একাধিক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে তৃণমূলেরই চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিলেন দলেরই ১১ জন কাউন্সিলর (No Confidence Movement)। বুধবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে এই অনাস্থা জমা পড়তেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
জঙ্গিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থার ঘটনা নতুন নয়। গত বছর জুন মাসেও একইভাবে মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন দলের একাংশ। সেই জল আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং প্রশাসকের শাসনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে মফিজুল ইসলাম পুনরায় চেয়ারম্যানের পদে বসেন। কিন্তু দলীয় কোন্দল মেটেনি, বরং সময় গড়ানোর সাথে সাথে তা আরও প্রকট হয়েছে। এক বছর বাদে ফের সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটল।
অনাস্থা প্রস্তাব পেশের পর ভাইস চেয়ারম্যান সন্তোষ মণ্ডল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই প্রাক্তন বিধায়কের সাথে আমাদের দ্বন্দ্ব ছিল, যা রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো সত্ত্বেও কোনো সমাধান হয়নি। তৃণমূল থেকে আমরা অনেকদিন ধরেই দূরত্ব বজায় রেখেছি। জঙ্গিপুরের মানুষকে বর্তমান রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির সুবিধা পৌঁছে দিতে আমরা নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চাই, আর সেই কারণেই এই অনাস্থা।”
বারবার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এবং পৌরসভায় এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে চরম নাজেহাল সাধারণ মানুষ। নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিষেবা স্বাভাবিক করার দাবিতেও সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, সামনেই রেজিনগরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভার কর্মসূচি রয়েছে। তার ঠিক আগে দলের অন্দরেই এমন বিষ্ফোরক অনাস্থা প্রস্তাব পেশ তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, এই অনাস্থা প্রস্তাবের পর পৌরসভা কোন দিকে মোড় নেয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়।

