সামসী: রাত তখন বেশ গভীর। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে (NH 31Rescue) তখন একের পর এক দ্রুতগতির লরি। হরিশ্চন্দ্রপুরের লক্ষণপুর এলাকার আঁধারে ঢাকা রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় তখন একেবারে নিঝুম, শুনশান। সেই স্তব্ধতার আড়ালেই নিঃশব্দে নিভে যাচ্ছিল একটা প্রাণ! দীর্ঘদিনের অনাহার আর পরিশ্রান্ত শরীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার অপেক্ষায় ছিলেন এক অশীতিপর বৃদ্ধ। পথচলতি কারও চোখে সেই ঘন অন্ধকারে পড়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু ভাগ্য আর সজাগ পুলিশি নজর—এই দুয়ের মেলবন্ধনে ঘটল ‘মিরাকেল’।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওই রাস্তা দিয়েই নাইট পেট্রোলিংয়ে যাচ্ছিলেন চাঁচলের এসডিপিও সোমনাথ সাহা। আচমকাই সরকারি গাড়ির তীব্র হেডলাইটের আলো গিয়ে পড়ে রাস্তার ধারের এক ঝোপের ওপর। চালকের আসনে থাকা চোখ আর পিছনের আসনে বসা এসডিপিও-র তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে যায়নি ঝোপের ভেতর জমে থাকা একটি নিস্তেজ ছায়া। সন্দেহ হতেই এক মুহূর্ত কালক্ষেপ না করে গাড়ি থামিয়ে সোজা ঝোপের মধ্যে নেমে পড়েন পুলিশকর্তা নিজেই (Humanity)। দেখা যায়, নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক অসহায় বৃদ্ধ।
এরপর পুলিশের গাড়িতেই ওই বৃদ্ধকে তুলে সোজা নিয়ে আসা হয় চাঁচল থানায়। সেখানে মুখে ঠাণ্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে, রুটি-তরকারি খাওয়ানো হয় তাঁকে। পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধের নাম দীনেশ চন্দ্র দাস। চাঁচলের বিহার সীমান্ত ঘেঁষা মায়াপুরের বাসিন্দা দীনেশবাবু গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন। ক্ষুধার জ্বালায় পথ হারিয়ে এসে পড়েছিলেন এই হরিশ্চন্দ্রপুরে।
The publish NH 31Rescue | জাতীয় সড়কে নিভছিল জীবনের আলো! পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার অশীতিপর বৃদ্ধ appeared first on Uttarbanga Sambad.
