উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও মজবুত করতে এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর পৌরহিত্যে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) তিন বাহিনীর (স্থল,নৌ ও বায়ুসেনা) জন্য প্রায় ৭৯,০০০ কোটি টাকার সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রস্তাবে ‘অ্যাকসেপটেন্স অফ নেসেসিটি’ (AoN) দিয়েছে। সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই AoN হল প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের মূল লক্ষ্য হল ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিনটি শাখাকেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য যে প্রধান সরঞ্জামগুলির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল-
নাগ মিসাইল সিস্টেম (ট্র্যাকড) Mk-II (NAMIS): এই ব্যবস্থাটি শত্রু পক্ষের কমব্যাট ভেহিকেল, বাঙ্কার এবং অন্যান্য সুরক্ষিত কাঠামোকে কার্যকরভাবে ধ্বংস করার ক্ষমতা বাড়াবে।
গ্রাউন্ড বেসড মোবাইল ELINT সিস্টেম (GBMES): এই অত্যাধুনিক সিস্টেমটি শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স (EI) ২৪ ঘণ্টা ট্র্যাক করতে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।
হাই মোবিলিটি ভেহিকেলস (HMVs): মেটেরিয়াল হ্যান্ডলিং ক্রেন সহ এই যানগুলি দুর্গম এবং বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর রসদ ও লজিস্টিক সাপোর্ট উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।
ল্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ডকস (LPD): এই যুদ্ধজাহাজগুলি নৌবাহিনীকে সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে উভচর অভিযান (Amphibious Operations) চালাতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা (HADR) কার্যক্রমেও LPD গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
৩০মিমি নেভাল সারফেস গান (NSG): এটি নৌবাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)-কে লো ইন্টেনসিটি মেরিটাইম অপারেশনস (LIMO) এবং জলদস্যুতা বিরোধী (Anti-piracy) অভিযানে আরও কার্যকর করে তুলবে।
অ্যাডভান্সড লাইটওয়েট টর্পেডো (ALWT): ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) দ্বারা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই টর্পেডো, পারমাণবিক এবং ক্ষুদ্র সাবমেরিন সহ যেকোনও ধরনের সাবমেরিনে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
কোল্যাবরেটিভ লং রেঞ্জ টার্গেট স্যাচুরেশন/ডিস্ট্রাকশন সিস্টেম (CLRTS/DS): এই ব্যবস্থাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন, অবতরণ, নেভিগেট করা, লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করতে সক্ষম। এটি মূলত দূর পাল্লার লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনুমোদনগুলি কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই করবে না বরং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
