উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি মদের দোকান থেকে মদ কিনছে স্কুল ইউনিফর্ম পড়া ছাত্রীরা! ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের মণ্ডলা জেলার নইনপুরের (Nainpur)। সরকারি মদের দোকান থেকে স্কুল ইউনিফর্ম পরা ছাত্রীদের মদ কেনার এমন একটি ভিডিও (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই চরম লজ্জাজনক ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনকে যেমন বিব্রত করেছে, তেমনই আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়েও তুলেছে গুরুতর প্রশ্ন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ওড়না দিয়ে মাথা আংশিক ঢাকা ইউনিফর্ম পরিহিত কয়েকটি স্কুলছাত্রী মদের দোকানে প্রবেশ করছে। তারা কাউন্টারে গিয়ে সরাসরি মদের জন্য অনুরোধ করে এবং বিক্রেতা তাদের কাছে সেই সামগ্রী বিক্রিও করে দেয়, কোনও প্রশ্ন না করেই। নাবালকদের কাছে মদ বিক্রির এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মহকুমা শাসক (SDM) আশুতোষ ঠাকুর স্থানীয় পুলিশকে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সিসিটিভি ফুটেজটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। প্রাথমিক তদন্তে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নাবালকদের কাছেই মদ বিক্রি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, এটি মদের লাইসেন্সের সাধারণ শর্ত (GLC)-এর গুরুতর লঙ্ঘন এবং আবগারি আইন অনুযায়ী এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ।
জেলা আবগারি কর্মকর্তা রামজি পান্ডে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “তদন্তে বিষয়টি পুরোপুরি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। শীঘ্রই জেলাশাসকের কাছে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠান হবে। এই দোকানের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করা হবে এবং মালিকের উপর কঠোর জরিমানা আরোপ করা হবে। যে কর্মচারী নাবালকদের কাছে মদ বিক্রি করেছে, তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।” কর্মকর্তারা আরও তদন্ত করে দেখছেন যে, ছাত্রীরা নিজেরাই মদ কিনতে গিয়েছিল নাকি অন্য কারও নির্দেশে তাদের দোকানে পাঠানো হয়েছিল।
এই বিতর্ক দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নিয়েছে। প্রাক্তন বিধায়ক এবং কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ড. অশোক মারস্কোলে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বলেন, “যখন জিতু পাটোয়ারী কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট উল্লেখ করে মধ্যপ্রদেশে ক্রমবর্ধমান মদ্যপানের প্রবণতা তুলে ধরেছিলেন, তখন বিজেপি নেতারা তাঁর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিলেন। আজ যখন স্কুলছাত্রীরা প্রকাশ্যে নইনপুরে মদ কিনছে, তখন সেই একই নেতারা এবং তাঁদের তথাকথিত নারী শক্তি কোথায়?” স্থানীয় জনগণ দোকান মালিকের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রশ্ন উঠেছে যে, কীভাবে এতো সহজে নাবালিকাদের কাছে মদ বিক্রি করার সাহস পেল বিক্রেতা।
