একই ভবনে শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুল এবং শিলিগুড়ি গার্লস প্রাথমিকের ক্লাস হয়। এই সমস্যা মেটাতে গার্লস প্রাথমিকের জন্য নতুন ভবন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন গৌতম দেব। তারপর পেরিয়েছে তিন বছর। পালটেছে সরকার। ওই জমিতে এখন আগাছার রাজত্ব। বিশবাঁও জলে পরিকল্পনা।
তমালিকা দে, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের ভবনে সকালে শিলিগুড়ি গার্লস প্রাথমিকের ক্লাস হয়। একই বিল্ডিংয়ে ক্লাস হওয়ায় মাঝেমাঝে দুই স্কুলের কর্তৃপক্ষকে সমস্যা পোহাতে হয়। সরকারি নির্দেশে যখন দুটো স্কুলেরই সকালে ক্লাস হয় তখন টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে অসুবিধা হয়। তখন ‘অল্টারনেট ডে’-তে ক্লাস করানো ছাড়া কর্তৃপক্ষের কাছে আর কোনও উপায় থাকে না। এছাড়াও কোনও অনুষ্ঠান করতে গেলেও যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেটাও দুই স্কুলের কর্তৃপক্ষকে মাথায় রাখতে হয়।
এই সমস্যা মেটাতে পুরনিগমের মেয়র থাকাকালীন গৌতম দেব শিলিগুড়ি গার্লস প্রাথমিকের নতুন ভবন তৈরির (New Constructing Plan) উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কলেজপাড়ায় শিলিগুড়ি কলেজের দ্বিতীয় গেটের সামনে থাকা শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের প্রায় পাঁচ কাঠা জমিতে এই ভবন তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। এরমধ্যে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। গৌতমও মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সবিমিলিয়ে শিলিগুড়ির প্রাথমিক গার্লসের নতুন ভবনের ভবিষ্যৎ আপাতত বিশবাঁও জলে।
এবিষয়ে গৌতম জানান, তিনি এখন আর মেয়র নন। তাই এবিষয়ে কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ বলেন, ‘কোন স্কুলের কী সমস্যা আছে সে বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।’
২০২৩ সালে শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের প্রায় পাঁচ কাঠা জমিতে শিলিগুড়ি গার্লস প্রাথমিকের নতুন শিক্ষা ভবন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র। বিষয়টি শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক)-কেও জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে স্কুলের পড়ুয়া সংখ্যা অনুযায়ী ক’টা ক্লাসরুম প্রয়োজন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কথা হয়েছিল ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের সঙ্গেও। কিন্তু ওই আলোচনাই সার, নতুন শিক্ষা ভবন তৈরির পরিকল্পনা আর আলোর মুখ দেখেনি।
গার্লস প্রাথমিকের তৎকালানীন টিচার ইনচার্জ ঋতুপর্ণা গুহ রায় বলেন, ‘স্কুলের জন্য আলাদা ভবন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে স্কুলের পঠনপাঠনে সুবিধা হত। কিন্তু তারপর আমার অন্য স্কুলে বদলি হয়ে যায়। এই পরিকল্পনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অত্যুহা বাগচী বলেন, ‘গার্লস প্রাথমিকের জন্য আলাদা ভবন তৈরি হলে দুটো স্কুলের জন্যই ভালো।’
যে জমিতে গার্লস প্রাথমিকের জন্য নতুন ভবন তৈরি করা হবে বলে ভাবা হয়েছিল পরিচর্যার অভাবে সেই জমি আগাছায় ভরে গিয়েছে। দিনের পর দিন ওই জায়গা পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বেড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাঁরা চান ওই জায়গায় স্কুলের ভবন তৈরি হোক।
শিলিগুড়ি শিক্ষা জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) তরুণকুমার সরকার বলেন, ‘গার্লস প্রাথমিকের জন্য নতুন ভবন তৈরির বিষয়ে একসময় প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখন এবিষয়ে কোনও আপডেট নেই।’
শিলিগুড়ি গার্লস প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষিকা মিতা ঘোষ বলেন, ‘আমি ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এই স্কুলে জয়েন করেছি। এব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

