নাগরাকাটা: পুজোর মুখে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে ফের পারদ চড়ছে বোনাস (Tea backyard bonus) ইস্যুতে। মালিকপক্ষের যৌথ মঞ্চ ‘কনসালটেটিভ কমিটি অফ প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (সিসিপিএ)-এর ডাকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর বসছে দ্বিপাক্ষিক প্রথম বৈঠক। ওইদিন অনলাইনে সবক’টি স্বীকৃত শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে মালিকপক্ষ। এই বৈঠক আহ্বানের সঙ্গেই ডুয়ার্স–তরাইয়ের বাগানগুলিতে শুরু হয়ে গেল বোনাস পর্বের টানটান কাউন্টডাউন। তবে প্রথা মেনে আলোচনার মাধ্যমে এক লপ্তে ২০ শতাংশ বোনাস আদায় করতেই এবার কোমর বাঁধছে শ্রমিক মহল।
গত বছর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ছক ভেঙে রাজ্য সরকারের একতরফা ২০ শতাংশের ‘অ্যাডভাইজারি’ জারি ঘিরে পাহাড়–ডুয়ার্সের (Dooars) বাগানগুলিতে তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। চামুর্চি চা বাগান পুজোর মুখে বন্ধ হয়ে আজও তালাবন্ধ। সুরেন্দ্রনগর, রেডব্যাংকের মতো বাগানগুলি মালিক–পরিত্যক্ত অবস্থায় ধুঁকছে। বহু বাগান গতবারের বোনাস আজও পুরো মেটায়নি, কিছু বাগান এখনও কিস্তিতে শোধ করছে। ফলে এবার গোড়া থেকেই কড়া মনোভাব নিচ্ছে শ্রমিক সংগঠনগুলি।
আন্দোলনের সুর চড়িয়ে বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি যুগলকিশোর ঝা বলেন, ‘যে কোনও মূল্যে ২০ শতাংশ বোনাস দিতেই হবে। এই দাবিতে আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর ডুয়ার্স ও তরাইজুড়ে জোরদার গেট মিটিং ডাকা হয়েছে।’ তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রবীন রাই স্পষ্ট বলেন, ‘দৈনিক মজুরি মোটে ২৫০ টাকা। অন্যান্য সুযোগ–সুবিধাও অমিল। পাওয়ার মধ্যে একমাত্র বোনাসের টাকা। সেটাও ২০ শতাংশ না দিলে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই নেই।’
ভার্চুয়াল বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে যৌথ মঞ্চ জয়েন্ট ফোরামের আহ্বায়ক তথা সিটু নেতা জিয়াউল আলম বলেন, ‘অনলাইন বৈঠকে নানা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় চলে আসে। তাই ১১ তারিখের প্রাথমিক আলোচনার পর ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিসিপিএ–কে মুখোমুখি বৈঠকের দিনক্ষণ জানাতে হবে। আড়াই বছর মজুরি এক পয়সাও বাড়েনি। ২০ শতাংশ বোনাস যে শ্রমিকদের ন্যায্য হক, তা মালিকরা ভালো করেই জানেন।’
পালটা সিসিপিএ–র সেক্রেটারি জেনারেল অরিজিৎ রাহা বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমেই বাগানের বোনাস ফয়সালা হয়। এটাই পরম্পরা। সেই আলোচনার জন্যেই বৈঠক ডাকা হয়েছে।’ আইটিপিএ–র উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘শ্রমিক সংগঠনগুলি বরাবরের মতো এবারের বোনাস নিয়েও চা বাগানগুলিকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।’

