উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভয়াবহ হড়পা বান ও ধসের পর চার দিন অতিক্রান্ত হতে চললেও নেপালের ধ্বংসস্তূপের চিত্র ক্রমেই আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Nepal Trishuli River Tunnel Catastrophe)। তবে প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ন’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন। রবিবার বিকেল পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে মোট ৭৮১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ অন্তত ২৫০২ জন।
নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় ত্রিশূলী নদীর ওপর অবস্থিত ন’টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি ছিল নির্মীয়মাণ। হড়পা বানের জেরে প্রকাণ্ড কাদামাটির স্তূপে ঢেকে যায় সুড়ঙ্গ মুখগুলি। উদ্ধারকারী দল ও নেপাল সেনার যৌথ প্রচেষ্টায় সাড়ে তিনশোর কিছু বেশি শ্রমিককে জীবিত অবস্থায় বের করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ৫৩৭ জন শ্রমিকের কোনো খোঁজ মেলেনি। সময় বাড়ার সাথে সাথে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ হয়ে আসছে। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের গভীরতা এতটাই বেশি যে অত্যাধুনিক থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও ভিতরের পরিস্থিতি চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
নুয়াকোটের ‘আপার ত্রিশূলী-৩এ’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ কাদা সরিয়ে রবিবার বিকেলে হাইড্রোলিক কাটার ও ড্রিল মেশিনের সাহায্যে প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গপথ খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। নেপালি সেনার মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট এবং প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সুড়ঙ্গের ভিতর প্রচুর জল জমে রয়েছে এবং ভেতরে ডাকাডাকি করা হলেও কোন সাড়াশব্দ মেলেনি। আপাতত সেই প্রবেশপথ চওড়া করার কাজ চলছে। অন্যদিকে, রাসুয়া জেলার ‘আপার ত্রিশূলী-১’ প্রকল্পে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে এককভাবে প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

