Nepal Tibet Border Flash Flood | নেপালে হড়পার ধ্বংসলীলায় এখনও মৃত ৯৫, খোঁজ নেই ১৩৩ ভারতীয় নাগরিকের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় ফের এক নজিরবিহীন ট্র্যাজেডির সাক্ষী থাকল হিমালয়ের  পাদদেশ। নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলা এবং তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন গ্যিরং এলাকায় আচমকা নেমে আসা বিধ্বংসী হড়পা বান ও তুষারধসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি ও আন্তর্জাতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৯৫ জনের প্রাণহানির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, চার শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সেতু এবং আস্ত জনপদ মুহূর্তের মধ্যে জলের তলায় তলিয়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার পাহাড়ি ভূমিরূপে নতুন করে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বিপর্যয় ঘটার ঠিক সাত মিনিট আগে তিব্বত ও নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি মাঝারি মাপের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিজ্ঞানীদের একাংশের অনুমান, এই আকস্মিক ভূকম্পনই সম্ভবত বিশাল তুষারধস বা বরফ-পাথরের ধস (avalanche) ডেকে এনেছিল। পাহাড়ি নদীর স্রোতে হঠাৎ এই বিপুল পরিমাণ বরফ ও ভাঙা পাথর আছড়ে পড়ায় ভোটেকোশি (Bhote Koshi) নদীর জলস্তর চোখের পলকে স্ফীত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থার (ICIMOD) গবেষকরা মনে করছেন, নদীর উজানে জমে থাকা প্রাকৃতিক বাঁধ বা বরফ গলা জল হড়পা বানের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিমুরে বাজার ও সিয়াপ্রু বেসিন অঞ্চলের সম্পূর্ণ অবকাঠামো ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও প্রকাশ্যে নিয়ে আসা সম্ভবপর হয়নি।

এই প্রাকৃতিক তাণ্ডব কেবল জীবনহানির মাঝেই সীমিত থাকেনি, বরং নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকেও মারাত্মকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। নেপালের জ্বালানি মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যায় দেশের মোট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। রাসুওয়াগাধির নতুন মৈত্রী সেতু এবং প্রধান সীমান্ত বাণিজ্য পথগুলি জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। একদিকে যখন নেপাল সরকার রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে সমস্ত পাহাড়ি রুটে যান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে, তখন চীন সরকারও গ্যিরং পোর্টের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর জরুরিকালীন উদ্ধার ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এই ভয়াবহ সংকটের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে ভারতের উত্তর ও পূর্বাংশে। বিশেষ করে নেপাল থেকে নেমে আসা নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের বিহার রাজ্য সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (Excessive Alert) গ্রহণ করেছে। কোশি, গণ্ডক এবং গঙ্গা নদীর অববাহিকাভুক্ত অন্তত ছয়টি জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF) বা এনডিআরএফ টিমগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে  গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং ভারতের তরফ থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিমানযোগে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর সমস্ত ব্যবস্থা পাকা করেছেন।

The publish Nepal Tibet Border Flash Flood | নেপালে হড়পার ধ্বংসলীলায় এখনও মৃত ৯৫, খোঁজ নেই ১৩৩ ভারতীয় নাগরিকের appeared first on Uttarbanga Sambad.



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *