উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে (Nepal-Tibet border) হড়পায় (Nepal Flash Flood) তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই তাণ্ডবের শিউরে ওঠার মতো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বতের দিক থেকে প্রবল জলের স্রোত নেমে এসে ভোটেকোশী নদীতে (Bhote Koshi River) ভয়াবহ আকার নেয়। মুহূর্তের মধ্যে জলস্তর বেড়ে রাসুয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট সহ সীমান্তবর্তী বহু এলাকা প্লাবিত হয়। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে একাধিক গ্রাম। ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তূপের নীচে বহু মানুষ আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭। এখনও নিখোঁজ ৭৫০ জনেরও বেশি। নেপালের পর্যটন মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের পর থেকে প্রায় ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ মিলছিল না, যার মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি। উদ্বেগের বিষয় হল, এই নিখোঁজদের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী রয়েছেন (Indian Pilgrims Lacking)। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও পর্তুগালের নাগরিকরাও নিখোঁজ তালিকায় আছেন। ঘটনাস্থলে বিপর্যয় মোকাবিলা দল ও নেপাল নিরাপত্তাবাহিনী পুরোদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ভারী কাদার স্তর সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
বিপর্যয়ের চরম মুহূর্তে নেপালের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভারত। বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে কথা বলেন এবং পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। বার্তালাপের পরেই ১০ টন ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি পরিবহণ বিমান নেপালের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভারতের সহমর্মিতা ও দ্রুত সহায়তার জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। আপাতত নেপাল সরকারের মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা।

