উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ প্রকৃতির ধ্বংসলীলা কাটিয়ে ওঠার আগেই নেপালে ফের নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দানা বাঁধছে (Nepal Darchula Landslide)। সে দেশের ধারচুলা জেলায় নতুন করে ধস নামার জেরে আংশিক ভাবে আটকে গিয়েছে চৌলানি নদীর গতিপথ। এই ঘটনায় নদী প্লাবিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই নদী তীরবর্তী ও নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপি হিমল গ্রামীণ পুরসভার অন্তর্গত ভাট্টারে এই ধস নেমেছে। ধসের জেরে পাহাড়ের বিশাল ভগ্নস্তূপ এসে পড়ায় চৌলানি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ অনেকটাই অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ওই অংশে যদি পুনরায় ধস নামে, তবে নদীর গতিপথে আরও মাটি, খোয়া ও বালি জমে জলের ধারা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে মারাত্মক হড়পা বানের রূপ নিতে পারে।
সুদূরপশ্চিমের মুখ্যমন্ত্রী খগরাজ ভট্ট ইতিমধ্যে সমস্ত রকম আপৎকালীন প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনসাধরণের সুবিধার্থে জরুরি কালীন হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, চৌলানি নদীর জলপ্রবাহ আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও, বালাঞ্চের চামেলিয়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধিকারিকেরা যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ হড়পা বানের পর নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনও প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দিনরাত এক করে সেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
আপা হিমল অঞ্চলে উৎস হওয়া চৌলানি নদীর অপর নাম চামেলিয়া। এই নদীটি গিয়ে পড়েছে মহাকালী নদীতে, যা নেপাল ও ভারতের একাংশের সীমান্ত তৈরি করেছে। গত মাসের শেষ দিকে আসা হড়পা বানের জেরে গোটা নেপাল জুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১,২৯৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও ১২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, তবুও নিখোঁজদের সংখ্যা এখনও বহু হওয়ায় উদ্বেগ কাটছে না। এর মাঝেই ধারচুলার নতুন এই ধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

