উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আকস্মিক প্লাবনের (Nepal Catastrophe) তোড়ে তলিয়ে গিয়েছে ঘরবাড়ি ও একাধিক বিদ্যালয়। ২৬ অগাস্টের বিধ্বংসী প্রলয় থমকে গেলেও নেপালের রসুয়া (Rasuwa) ও নুয়াকোট জেলার ঘরে ঘরে এখন শুধুই সন্তানহারা বাবা-মায়ের আর্তনাদ। ভয়াবহ বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ কেটে গেলেও অন্তত ৬০০ শিশুর কোনো সন্ধান মেলেনি, যা সংলগ্ন পুরো এলাকা জুড়েই এক থমথমে ও মর্মান্তিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম-এর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বন্যার (Flood) প্রবল তোড়ে রসুয়ার ৪টি এবং নুয়াকোটের ৮টি স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শিশুদের উপস্থিতির হিসাব রাখা কিংবা তাদের সুরক্ষার আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করা এই বিদ্যালয়গুলির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখন আর নিখোঁজদের তালিকা তৈরি করার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগও অবশিষ্ট নেই।
উদ্ধারকারীদের মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপর্যস্ত টেলিকম পরিষেবা। এলাকা জুড়ে মোবাইল ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল থাকায় আক্রান্ত অঞ্চলের খবর বাইরে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। একটি ফোন করে সন্তান সুস্থ আছে কি না—সেই খবরটুকু জানার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হাজার হাজার পরিবার।
বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে জীবিতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় অসম্পূর্ণ খবরের টুকরো আঁকড়ে ধরেই বুক বাঁধছেন অভিভাবকেরা। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আর ত্রাণকর্মীরা দুর্গম এলাকাগুলিতে স্বশরীরে পৌঁছাতে না পারা পর্যন্ত এই কয়েকশো শিশুর ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারেই ঢাকা পড়ে রইবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্বজনহারাদের মাঝে।

