উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কূটনৈতিক চাপ এবং নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের স্বজনদের আকুতির কাছে শেষ পর্যন্ত পিছু হটল কাঠমান্ডু (Kathmandu)। প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে বিপর্যস্ত নেপালে (Nepal) বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে ঢুকতে না দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থেকে ইউ টার্ন নিল বলেন্দ্র শাহ প্রশাসন। বুধবারের বিধ্বংসী হড়পা বানে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর পর যখন প্রায় সহস্রাধিক মানুষ নিখোঁজ, তখন আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো চাপে অবশেষে ভিনদেশি উদ্ধারকারী দলগুলিকে সীমান্ত পারের ছাড়পত্র দিল নেপাল সরকার।
সূত্রের খবর, এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে (Catastrophe) নেপালে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি নাগরিক। ভারত, আমেরিকা, ইউক্রেন ও অস্ট্রেলিয়া-সহ প্রায় ৩১টি দেশের পর্যটকরা এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতেরা কাঠমান্ডুর ওপর ক্রমাগত কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে থাকেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেষ পর্যন্ত সুর নরম করে নেপাল প্রশাসন।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহায্যের বার্তার পাশাপাশি ভারত-সহ আটটি দেশের উদ্ধারকারী দলের প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করেছিল কাঠমান্ডু। দেশীয় সেনার ওপর আস্থা রেখেই কেবল আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। তবে বুধবারের মৃত্যুর উপত্যকা আর শুক্রবারের প্রায় হাজারখানেক নিখোঁজের বাস্তব চিত্র পাল্টে দেয় সব সমীকরণ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের তিক্ত স্মৃতির কারণে উদ্ধারকাজে সমন্বয়হীনতার ভয় থাকলেও, কূটনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত বিদেশি সাহায্যের হাত ধরেই বিপর্যয় মোকাবিলায় নামতে বাধ্য হল হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই দেশটি।

