উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে দিয়ে আজ, ২১ জুন রবিবার দেশজুড়ে সম্পন্ন হল নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET UG 2026)-এর পুনঃপরীক্ষা। আগের পরীক্ষাটি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিতর্ক ও বাতিলের পর, এবার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোনো খামতি রাখেনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)।
ভারতের ৫৫১টি শহর এবং দেশের বাইরে ১৪টি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র সহ মোট ৫,৪৪০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে এই মেগা পরীক্ষা নেওয়া হয়। দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলা এই পুনঃপরীক্ষা বসেছিলেন ২২ লক্ষেরও বেশি চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরীক্ষার্থী।
পূর্ববর্তী পরীক্ষার কেলেঙ্কারি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার এনটিএ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক নিরাপত্তার এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো রকম অসদুপায় রুখতে যে সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়:
- AI এবং বায়োমেট্রিক নজরদারি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ক্যামেরা এবং বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
- সিগন্যাল জ্যামার ও সিসিটিভি: পরীক্ষা চলাকালীন যে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ রুখতে কেন্দ্রগুলিতে সিগন্যাল জ্যামার বসানো হয়েছিল।
- ডগ স্কোয়াড ও ফ্রিস্কিং টিম: প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে কড়া তল্লাশির জন্য বিশেষ ফ্রিস্কিং টিম এবং ডগ স্কোয়াড মোতায়েন ছিল।
পরীক্ষার্থীদের কঠোর ড্রেস কোড মেনে চলতে বলা হয়েছিল এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সেন্টারের গেট বন্ধের ডেডলাইনের অনেক আগেই পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র ২১ জুনের নতুন অ্যাডমিট কার্ড নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি মেলে।
পরীক্ষার ঠিক আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পরীক্ষার্থীদের শান্ত থাকার এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষা করতে এবং মেধার মূল্যায়ন সুনিশ্চিত করতে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।” এনটিএ দেশজুড়ে মক ড্রিল এবং বিশেষ পরিদর্শন চালিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেই এদিন সবুজ সংকেত দিয়েছিল।
পরীক্ষা নির্বিঘ্নে মিটলেও, নিট-কে কেন্দ্র করে পড়ুয়াদের ওপর তৈরি হওয়া মানসিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ কিন্তু কমেনি। রি-টেস্টের ঠিক আগের দিনগুলিতে একাধিক নিট পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে আসায় দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকদের মতে, পরীক্ষার বারবার সূচি বদল এবং প্রশ্ন ফাঁসের বিতর্কের কারণে পরীক্ষার্থীদের ওপর যে সীমাহীন মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকের পক্ষেই নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আজকের পরীক্ষা কতটা নিষ্কণ্টক হল, এখন সেটাই দেখার।

