উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি (Hormuz Strait) এখন রণক্ষেত্র। একের পর এক তেলের ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। এই চরম উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর— হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা আরও দু’টি ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘পাইন গ্যাস’ (Pine Gasoline) ও ‘জগ বসন্ত’ (Jag Vasant) শীঘ্রই দেশের পথে রওনা দিতে প্রস্তুত।
মোদি সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা
উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ভারতের ২২টি জাহাজের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রক ও নৌপরিবহন মন্ত্রক নিরন্তর নজরদারি চালাচ্ছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ এবং বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” ইতিমধ্যেই ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ নামের দুটি জাহাজ নিরাপদে গুজরাত উপকূলে পৌঁছেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দু’টি জাহাজ?
মেরিনট্রাফিক-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপকূলে নোঙর করে সিগন্যাল পাঠিয়েছে। শনিবারই জাহাজ দুটি হরমুজ পার করতে পারে। ভারতের এলপিজি (LPG) চাহিদার এক বিশাল অংশ বহন করছে এই ট্যাঙ্কারগুলি।
পাইন গ্যাস: আইওসি (IOC) দ্বারা পরিচালিত।
জগ বসন্ত: ভাড়া নিয়েছে বিএপিসিএল (BPCL)। এই দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ৯২ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। উল্লেখ্য, হরমুজে আটকে থাকা ৬টি ট্যাঙ্কার ভারতের মাসিক চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি বহন করছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও হরমুজের অবরোধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত চরমে পৌঁছায়। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ইরান পাল্টা হিসেবে মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয়। তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, পথটি শুধুমাত্র আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির জন্য বন্ধ, অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে আপাতত বাধা নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণের পথ। এই পথ রুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের কাছে এই দুই ট্যাঙ্কারের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কেবল বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এখন দিল্লির সাউথ ব্লকের নজর ‘পাইন গ্যাস’ ও ‘জগ বসন্ত’-এর গতিপ্রকৃতির ওপর। এই দুই জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পেরিয়ে এলেই ভারতের জ্বালানি সঙ্কটে অনেকটাই স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
