উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে পড়ুয়া বিক্ষোভ ও ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) নিয়ে সোমবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট (NEET Protest Supreme Court docket)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার বা বন্ধ করতে রাজ্য সরকারগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীন। তবে বিক্ষোভের আড়ালে যারা গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিনের শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, শুধুমাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য কোনো ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাওয়ার বা আইনি হেনস্তা করার সরকারের কোনো উদ্দেশ্য নেই। সরকারের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আবেদনকারীদের আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার ও গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতের নজরে আনেন যে, পাটনার একটি মাত্র এফআইআরেই ১৫২ জনের নাম সহ প্রায় ৫ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় বিক্ষোভকারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলির মাধ্যমে ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেওয়ার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং মুখের ছবি শনাক্তকরণ (Facial Recognition) প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্মতি ছাড়া তথ্য সংগ্রহের বিষয়টিতে গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, তদন্তের আগে প্রকৃত ছাত্র এবং পেশাদার বা গুরুতর অপরাধীদের দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে স্পষ্টভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা প্রয়োজন। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা ছোটখাটো বিক্ষোভের মামলাগুলিকে ‘ক্রিমিনাল হিস্ট্রি’ বা গুরুতর অপরাধের তালিকায় ফেলা যাবে না। এছাড়া আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের পক্ষ থেকে পেলেট গান সহ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং কথিত অত্যাচারের অভিযোগ নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের সুরক্ষার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে একটি স্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের সম্ভাবনার কথাও ভাবছে আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রকৃত ছাত্রদের অযথা হয়রানি করা যাবে না, তবে শুধুমাত্র আন্দোলনের আড়ালে গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত কেউ আইনি সুরক্ষা দাবি করতে পারবেন না। আগামী ১৮ অগাস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। তার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

