উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিট (NEET faux paperwork Excessive Court docket) পরীক্ষার ফলাফল ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং আইনি জট দিন দিন বেড়েই চলেছে। কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ তুলে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করেছিলেন বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী। কিন্তু শুক্রবার সেই সমস্ত মামলা সংক্রান্ত শুনানিতে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসে। এনটিএ-র জমা দেওয়া রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্দেশ দেন যে, নথিতে কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইন মেনেই কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে এনটিএ (NTA)। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করার চেষ্টার অভিযোগে সমস্ত মামলাগুলি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি।
আদালতে এনটিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের একাংশ জেনেশুনেই নকল ওএমআর শিট এবং বিকৃত নথি জমা দিয়ে মামলা করেছেন। আদালতের কাছে প্রকৃত নম্বর গোপন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক মামলাকারী তিনটি আলাদা ফলাফল জমা দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগামী তিন বছর পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা সহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে পরীক্ষক সংস্থা। অন্য এক পরীক্ষার্থী ৩৭০ নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগ তুললেও, পরে সেই নথি জাল প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের ভয়ে মামলা তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। বিচারপতি অমৃতা সিনহা মন্তব্য করেন, জাল নথি পেশ করে খোদ আদালতকেই প্রতারিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
এই বেনিয়মের ফলে বিপাকে পড়েছেন মামলাকারীদের আইনজীবীরাও। নথি জাল কি না তা যাচাই করা অসম্ভব হওয়ায় অনেক সিনিয়র আইনজীবী আদালতে সওয়াল করতে অস্বীকার করেন এবং জুনিয়রদের পাঠিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই ধরনের ভুয়ো মামলা করার নেপথ্যে দুটি প্রধান কারণ কাজ করছে—একদিকে প্রশ্নফাঁসের আবহকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, এবং অন্যদিকে পারিবারিক চাপের মুখে পড়ে পরীক্ষা দেওয়ার পর নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা। প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও বিক্ষোভের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলেও, এই জালিয়াতির ঘটনা গোটা প্রক্রিয়ায় নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

