উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই) (NCPI)-তে যোগ দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের ২০ জন সাংসদকে নোটিশ পাঠিয়েছিল লোকসভার স্পিকারের সচিবালয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশের উত্তর দেওয়ার ৭ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হলেও, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে জবাব না দিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। এই বিষয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলী ঘোষ দস্তিদাররা আইনি পরামর্শ নিতে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন বলে এনসিপিআই সূত্রে খবর।
রাতারাতি তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-তে নাম লেখানো পশ্চিমবঙ্গের এই ২০ জন সাংসদকে গত ২৬ অগাস্ট নোটিশ পাঠিয়েছিল লোকসভার স্পিকারের সচিবালয়। মঙ্গলবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, জবাব দেওয়ার বদলে ইমেল এবং স্পিডপোস্ট মারফত লোকসভার স্পিকারের সচিবালয়ের কাছে আরও কিছুটা সময় প্রার্থনা করেছেন ওই সাংসদরা। ২০ জনই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একই বয়ানে এই চিঠি পাঠিয়েছেন। কোচবিহারের জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খানের মতো একাধিক সাংসদ বাড়তি সময় চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।
খাতায়কলমে তৃণমূলে থাকলেও এই সাংসদেরা ইতিমধ্যেই এনডিএর বৈঠকে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) বাসভবনেও গিয়েছেন। এই ২০ জনেরই সাংসদপদ খারিজ করার আর্জি জানিয়ে স্পিকারের কাছে পিটিশন দাখিল করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। স্পিকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নিতে দেরি হওয়ায় অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ২৫ অগাস্ট প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় এবং আদালত ওই ২০ সাংসদের বক্তব্য তলব করে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপে চাপে পড়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিযুক্ত সাংসদরা। তবে এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “ওঁদের জবাব দেওয়ার কিছু নেই, তাই জবাব দিতে পারেননি। ওঁরাও জানেন কতটা অবৈধ কাজ করেছেন।”

