উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় স্তরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। ঠিক এই আবহেই অজিত পাওয়ারপন্থী এনসিপি (NCP) নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শায়ের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়। সূত্রের খবর, এনডিএ জোটকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে এবং এনসিপির অন্দরের সমস্ত মতবিরোধ মিটিয়ে নিতে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে অজিত পাওয়ারের প্রয়াণের পর দল কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে দুই এনসিপি শিবিরের একত্রিত হওয়ার তীব্র জল্পনা তৈরি হলেও, প্রকাশ্যে সেই সম্ভাবনার কথা নাকচ করছে সব পক্ষই। এই প্রতিনিধি দলে অজিত পাওয়ারের স্ত্রী ও ছেলে সুনেত্রা পাওয়ার ও পার্থ পাওয়ারের মতো মূল সারির নেতাদের অনুপস্থিতি একীকরণের জল্পনায় আপাতত জল ঢেলে দিয়েছে। তবে প্রফুল প্যাটেল, ছগন ভুজবলের মতো অজিত শিবিরের প্রথম সারির নেতারা এই বৈঠকে ছিলেন। ফলে ২শিবিরের এক হওয়ার জল্পনাকে একেবারে উড়িয়েও দিতে পারছে না রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, সোমবার সুনেত্রা পাওয়ারের বাসভবনে আয়োজিত একটি কোর কমিটির বৈঠকে এনসিপির দুই শিবিরের সংযুক্তির দৃঢ়ভাবে বিরোধিতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শারদ পাওয়ার শিবিরের তরফ থেকেও এই ধরনের সম্ভাবনার কথা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দলের পক্ষ থেকে উমেশ পাটিল এই বৈঠককে অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক রং দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে জানান যে, অহেতুক অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য তৈরি করার চেষ্টা চলছে। জোটসঙ্গীদের এই ধরনের সাধারণ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলিকে অযথা রাজনৈতিক রঙের মোড়কে না দেখার জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন। মহায্যুতি জোটে (Mahayuti Alliance) এনসিপির অজিত পাওয়ার শিবির সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে অজিত পাওয়ারের জীবিতকালে দুই শিবিরের একত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের পর সেই সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

