গৌরহরি দাস, কোচবিহার: পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগেই কোপ পড়ায় আশঙ্কা বাড়ছে।
দূষণমুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি জ্বালানির সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম (এনবিএসটিসি) (NBSTC) সিএনজি বাসের (CNG Bus) দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ৩০টি বাস কেনা হয়েছে। আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে নতুন করে আরও ৬৭টি সিএনজি বাস নিগমে আসতে চলেছে। এই বাসগুলি চালিয়ে বেশ কিছুটা জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছিল। তবে কম্প্রেসড ন্যাচরাল গ্যাসের (সিএনজি) দাম কেজি প্রতি তিন টাকা বৃদ্ধির কারণে এনবিএসটি চিন্তায় পড়েছে। খরচ কমিয়ে কীভাবে আয় বাড়ানো যায় সেটাই এখন তাদের মূল চিন্তা।
এনবিএসটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপঙ্কর পিপলাই বলেন, ‘সিএনজির দাম কেজিতে তিন টাকা করে বেড়েছে। ফলে সিএনজি বাস চালিয়ে আমরা যে জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা ভেবেছিলাম সেটা অনেকটাই মার খাচ্ছে। সমস্ত জায়গায় সিএনজি না মেলাটাও একটা সমস্যা। নিগমের আয় বৃদ্ধি নিয়ে আমাদের বিকল্প কিছু চিন্তাভাবনা করতে হবে।’
বর্তমানে এনবিএসটিসিতে ৭০৬টি বাস রয়েছে। কিছু বাস রিজার্ভে থাকে। ৫৮০–৬০০টি বাস রোজ রাস্তায় নামে। উত্তরবঙ্গে দৈনিক গড়ে ২১৯টি রুটে এই বাস চালানো হয়। বাসগুলি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কিলোমিটার সহ মাসজুড়ে গড়ে ৫০ লক্ষ কিলোমিটার চলাচল করে। প্রতিদিন ১ লক্ষ ২০ থেকে ২৫ হাজার যাত্রী বাসগুলিতে যাতায়াত করেন। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৯৩ টাকা এবং সিএনজি কেজি প্রতি ৯৪ টাকা ছিল। এক লিটার ডিজেলে একটি বাস ৪.২৫ কিলোমিটার চলে। এক কেজি সিএনজিতে বাস পাঁচ কিলোমিটার চলে। ফলে সিএনজি বাসগুলি চালিয়ে নিগমের বেশ কিছুটা জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে সিএনজির দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৯৭ টাকা হওয়ায় সেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। অন্যদিকে, সিএনজি বর্তমানে শুধু কোচবিহার, শিলিগুড়ি ও রায়গঞ্জ সহ কয়েকটি জায়গায় মেলে। সেটিও সমস্যা বাড়িয়েছে।
নিগম সূত্রে খবর, গাড়ি চালানোর খরচ, কর্মীদের বেতন সহ সবমিলিয়ে এনবিএসটিসির প্রতি মাসে ২১ থেকে ২২ কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও মাসে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার বেশি আয় করা যাচ্ছে না। প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার ঘাটতি রাজ্য সরকারকে মেটাতে হয়। এই পরিস্থিতিতিতে সিএনজি আশার আলো দেখালেও এখন পরিস্থিতি অন্য দিকে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়ছে।
