উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আপাতত প্রাক্তন ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া’ বা সেবি কর্তা মাধবী পুরি বুচের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যাবে না। সোমবার বিশেষ আদালতের নির্দেশ খারিজ করে এমনটাই জানাল বম্বে হাই কোর্ট। মুম্বই অ্যান্টি কোরাপশন ব্যুরোকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
শেয়ার বাজারে কারচুপির অভিযোগে প্রাক্তন সেবি (SEBI) (সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া) প্রধান মাধবী পুরি বুচ (Madhabi Puri Buch) ও পাঁচ আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদালতের নজরদারিতে তদন্তের নির্দেশ দেয় বিশেষ আদালত। ৩০ দিনের মধ্য তদন্তের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতেও নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ আদালত। এরপরই এই নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানায় সেবি। সেই মতো এদিন শুনানি হয় বম্বে হাইকোর্টে। সেখানে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং আইনজীবী অমিত দেশাই জানান, নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে কোনও নোটিস না দিয়েই তদন্ত শুরু নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়। সেবির আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়ে জানায়, মঙ্গলবার শোনা হবে এই মামলা।
সেবির নির্দেশকের পদ থেকে গত ১ মার্চ তিনি অবসর নিয়েছেন মাধবী পুরি বুচ। তার ৩ বছরের কার্যকালের শেষ বছরেই বেশ কিছু বিতর্ক তাঁকে ঘিরে ধরে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের রিপোর্টে মাধবী ও তাঁর স্বামী ধবল বুচের বিরুদ্ধে বলা হয় যে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি-র পর্ষদ সদস্য ও চেয়ারপার্সন হওয়ার পরেও নিজের উপদেষ্টা সংস্থা আগোরা অ্যাডভাইজ়রিতে মাধবী নিজের অংশীদারিত্ব বহাল রেখেছিলেন। মাধবীর উপদেষ্টা সংস্থা বিভিন্ন দেশীয় শিল্পকে পরামর্শ দিয়ে আয় করে থাকে বলেও রিপোর্টে জানানো হয়। অংশীদার হিসেবে সেই আয়ের দ্বারা লাভবান হন মাধবী ও তাঁর স্বামী । সেই সঙ্গে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের দাবি, কৃত্রিম ভাবে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দাম বাড়ানোতেও ভূমিকা ছিল মাধবী পুরি বুচের। এমনকি আদানী গোষ্ঠীর পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থায় ঘুরপথে লগ্নি ছিল বুচ দম্পতিরও। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির তরফে মাধবী পুরি বুচকে তলব করা হয়। যদিও বৈঠক এরিয়ে যান তিনি। যা নিয়ে মাধবীর বিরুদ্ধে সরব হয় কংগ্রেস। মুখ খোলেন খোদ রাহুল গান্ধিও। পালটা বিজেপি দাবি করে মাধবীকে তলবের কোনও অধিকারই নেই পিএসির। বুচ দম্পতিও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন।
