সামসী: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই মালদার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাঁচলে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে তুললেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui)। চাঁচল বিধানসভার ভেবা এলাকায় আয়োজিত এক কর্মীসভা থেকে রাজ্যের শাসক দল এবং শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন তিনি। ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Property Controversy) দখল থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিস— বাদ গেল না কিছুই।
মঞ্চ থেকে রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে নওশাদ বলেন, “মুসলমানদের মসিহা সেজে ফিরহাদ হাকিমই সবথেকে বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে রেখেছেন। এমনকি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে অফিসে বসেন, সেটাও ওয়াকফ সম্পত্তির ওপর দাঁড়িয়ে।” এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধে তিনি বলেন, “চোরের রানি বসে রয়েছেন নবান্নে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তলে তলে কেন্দ্রের ওয়াকফ আইন মেনে নিয়েছেন।”
নওশাদ সরাসরি রাজ্য সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাঁর বক্তব্য যদি মিথ্যা হয় তবে সরকার তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করুক। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধেই তাঁর নামে কুড়িটি মামলা রয়েছে, আরও একটি হলে তাঁর কিছু যায় আসে না।
নওশাদের এই মন্তব্যের পালটা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও। মালদা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, “নওশাদের কথায় তৃণমূলের কিছু যায় আসে না। আইএসএফ এবং মিমের মতো দলগুলো বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপিকে অক্সিজেন দিচ্ছে। বাংলার মানুষ সব বোঝে, ২০২৬-এই তার জবাব মিলবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদার মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলায় নির্বাচনের আগে আইএসএফ বা মিমের মতো দলের সক্রিয়তা শাসক দলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে। আর নওশাদের এই আক্রমণ সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল।
