উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিজেপিকে রুখতে হলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে কোনো লাভ নেই, বরং তৃণমূলের বিকল্প শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেই গেরুয়া শিবিরকে মোকাবিলা করতে হবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান এভাবেই অত্যন্ত স্পষ্ট করে তুলে ধরলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি (Naushad Siddiqui)। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে বাম, কংগ্রেস এবং আইএসএফ-সহ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট প্রয়োজন, তবে সেই জোটে তৃণমূলের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।
বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি এবং আলাদা লড়ার ফলে শেষ পর্যন্ত বিজেপির সুবিধা হয়ে যাচ্ছে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে নওশাদ সিদ্দিকি জানান, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় পক্ষই তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধেই এবং সেই লড়াইয়ে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ হতে সব সময় প্রস্তুত।
তৃণমূলকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিকে আটকানোর তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়ে তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যদি সত্যিই তৃণমূল-কংগ্রেসের মাধ্যমে বিজেপিকে আটকানো সম্ভব হতো, তবে নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার প্রয়োজন হতো না। পাশাপাশি তিনি কটাক্ষের সুরে এমন কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের প্রসঙ্গ তোলেন, যারা নির্বাচনে না লড়েই রেজিস্ট্রেশনের পর হুট করে বহু বিধায়ক বা সাংসদ পেয়ে যায়। এই ধরনের শক্তিগুলিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়া শক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে এদের ওপর ভরসা করে বিজেপির মোকাবিলা করা যায় না।
২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট ফর্মুলা বাতলে দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক। তাঁর মতে, আগামী নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেসকে আর আগের মতো একরোখা বা জেদি মনোভাব নিয়ে বসে থাকলে চলবে না। পাশাপাশি, বামেদেরও তাদের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে আরও কিছুটা নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আইএসএফ সহ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দল এক ছাতার তলায় এলে আসন্ন পুরনির্বাচনেই বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেওয়া সম্ভব হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিজেপি অতীতে যে বিপুল ভোট পেয়েছে, তা কোনো নেতার ক্যারিশমায় নয়, বরং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে ওই ভোট দিয়েছে। আসন্ন পুরনির্বাচনের লড়াইয়েই তা প্রমাণ করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন নওশাদ সিদ্দিকি।

