উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সমুদ্রপথ সুরক্ষিত না থাকলে বিশ্ববাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস ফোরাম (BRICS Enterprise Discussion board) -এর মঞ্চ থেকে তিনি জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে জাহাজ চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা এবং নাবিকদের সার্বিক নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। সমুদ্রপথে কোনও প্রকার বিঘ্ন বা বাধা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চক্রে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। এমনকি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ওমান উপসাগরেও ভারতীয় জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে। সরাসরি কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলের নাম না নিলেও আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
Narendra Modi BRICS Enterprise Discussion board Speech: সমুদ্রপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুক্ত জলপথ এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভারতের মূল অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, সুরক্ষিত সমুদ্রপথ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রুট ছাড়া সামগ্রিক অর্থনীতির বিকাশ সম্ভব নয়।
জলপথের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় ভারতের ভূমিকা ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি জানান:
- সমুদ্রবাণিজ্যের পথ অবাধ রাখতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত সর্বদা সক্রিয় মেরিটাইম সিকিউরিটি (Maritime Safety) ও জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
- জলপথে অচলাবস্থা দেখা দিলে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ বা গ্লোবাল চেন সাপ্লাই (World Provide Chain)।
- আন্তর্জাতিক সংঘাতের মধ্যেও বাণিজ্যিক করিডর ও নাবিকদের জীবন সুরক্ষিত রাখাই প্রধান দায়িত্ব।
পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পর্যালোচনা
এই সম্মেলনের ফাঁকেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা, শক্তি, মহাকাশ গবেষণা, দক্ষ কর্মী বিনিময় এবং দুই দেশের নাগরিকদের পারস্পরিক যোগাযোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। একই সঙ্গে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ও পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়, যার সরাসরি বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমুদ্রবাণিজ্য ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তায়।
ব্রিকসের অর্থনৈতিক শক্তি ও ভারতের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, বর্তমান বিশ্বে ব্রিকস দেশগুলির হাতে রয়েছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ, বৈশ্বিক অর্থনীতির ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি। বিশ্বের সার্বিক অর্থনীতি যখন প্রায় আড়াই গুণ বেড়েছে, সেখানে ব্রিকসের সম্মিলিত অর্থনীতি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ।
বিশ্বজুড়ে নানাবিধ অনিশ্চয়তা ও বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ভারত কীভাবে বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্র হয়ে উঠছে, তা তুলে ধরেন তিনি। দেশে বর্তমানে ২ লক্ষের বেশি নথিভুক্ত স্টার্ট-আপ এবং ১২০টি ইউনিকর্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়ক, রেল, বন্দর ও বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, খনিজ সম্পদ এবং বায়োটেকনোলজির মতো কৌশলগত ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক আদানপ্রদান আরও মসৃণ করতে ব্রিকস দেশগুলির অভ্যন্তরীণ ১০টি বড় বাণিজ্যিক বাধা দূর করার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতি বছর সদস্য দেশগুলির অন্তত ১০০টি নতুন উদ্যোগকে প্রসারিত করা এবং এক হাজার নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডিজিটাল অগ্রগতির উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল লেনদেনের প্রায় অর্ধেক এখন ভারতের Unified Funds Interface (UPI)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। ব্রিকসের এই ক্রমবর্ধমান আর্থিক সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য কার্যকর সমাধান খোঁজার বার্তা দেন তিনি।

