উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্থির বাজার এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ছায়া এবার ভারতের অন্দরেও। রবিবার হায়দরাবাদ থেকে দেশবাসীকে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী ও সংযমী হওয়ার আর্জি জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বিদেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে এবং দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতেই এই বার্তা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রবিবার হায়দরাবাদে (Hyderabad) এক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী (PM)। এদিন ভার্চুয়ালি প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাসও করেন তিনি। এই মঞ্চ থেকেই আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং ভারতের অর্থনীতির যোগসূত্র ব্যাখ্যা করেন মোদি।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভারত পেট্রোপণ্যের ক্ষেত্রে এখনও স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। চাহিদার একটি বড় অংশ চড়া দামে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। মোদির কথায়: “বর্তমান সময়ে পেট্রল, ডিজেল বা গ্যাসের মতো জিনিস আমাদের খুব বুঝেশুনে ব্যবহার করতে হবে। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই খরচ করুন। আমদানিকৃত পণ্যের অপচয় বন্ধ করলে যেমন বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্বজনীন সংকটের প্রভাবও আমরা মোকাবিলা করতে পারব।”
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহে যে সাময়িক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘সাশ্রয় নীতি’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেবল সতর্কতা নয়, ভবিষ্যতের দিশাও দেখান প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ভারত দ্রুত অচিরাচরিত শক্তির দিকে ঝুঁকছে। সৌরশক্তিতে ভারত এখন বিশ্বের প্রথম সারির দেশ। পাশাপাশি, পেট্রলের সঙ্গে ইথানলের মিশ্রণ এবং রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে এলপিজি-র বদলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ ভারত সরকারকে অনেকটাই স্বস্তি দিচ্ছে। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর থেকে চাপ কমাতে এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলিই আগামী দিনে ঢাল হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
