Nandita-Shiboprosad helmed Phool Pishi O Edward Movie Evaluate

Nandita-Shiboprosad helmed Phool Pishi O Edward Movie Evaluate

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


নন্দিতা রায় আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাংলা সিনেমার পরিচালনায় এই যুগ্মতা মানেই ডেডলি ডেলিভারি। চাঁদমারি ভেদ। এবং তাঁদের সদ্যমুক্ত ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’, এক কথায়, পাপের গল্প। নারী শরীরের গল্প। সেই গল্পে কখনও পুরুষ চায় নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের উত্তেজনা ও উত্তাপ। কখনও বিকৃত যৌনতার অনাচার ও প্রশমন। কিম্বা চায় বংশ রক্ষার জন্য পুত্রসন্তান। কিম্বা বিয়ের পণ হিসেবে চায় কিডনি! এবারের নন্দিতা-শিবপ্রসাদ তাঁদের ছবিতে এনেছেন অবিশ্বাস্য অ্যাডাল্ট স্টাফ। প্রবল প্রাপ্তবয়স্ক বিষয় কিন্তু। এবং সেই সঙ্গে বাঙালি দর্শককে তাঁরা ফেলেছেন এক্কেবারে নতুন রকমের হিউমারের চ্যালেঞ্জের সামনে। একে বলে স্ল্যাপস্টিক হিউমার, যা আমাদের পরিচিত হাস্যরসের পরিধি পেরিয়ে যায়, সংলাপে এবং অঙ্গভঙ্গির বার্তায় ও ব্যবহারে। বাঙালি বিশেষ পরিচিত নয় স্ল্যাপস্টিক কমেডির অবয়ব ও চরিত্রের সঙ্গে। তবে আমি ব্যক্তিগত আনন্দ পেয়েছি প্রচুর। বিশেষ করে পুলিশ-গোয়েন্দার ভূমিকায় রজতাভ দত্তর অভিনয়ে। ডিটেক্টিভের অভিনয় রজতাভ একটা দারুন নিজস্ব স্টাইল তৈরি করে ফেলেছেন। এই ছবিতে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলেছেন সেই স্বাক্ষর থেকে। নিজের সই বদলানো সহজ নয়। তিনি পেরেছেন। এবং গোয়েন্দা-পুলিশের ভূমিকায় নন্দিতা-শিবপ্রদাদের রজতাভ আমাকে অবাক করেছে।

‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবিতে সোহিনী সেনগুপ্ত।

আরও পড়ুন:

বিরতি পর্যন্ত ছবিটা কিন্তু খুব মন দিয়ে দেখতে হবে। সামান্য শ্লথ গতিতে ছবি এগোয়। এবং নন্দিতা-শিবপ্রসাদ ধীরে ধীরে নারী চরিত্রদের মেলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে অদিতির ভূমিকায় রাইমা সেনের মাধুর্যে আসি। যে দৃশ্যে লম্পট জমিদার স্বামী মনীন্দ্র চন্দ্রের (অর্জুন চক্রবর্তী) সঙ্গে নিজের বোনের বিয়ের গায়ে হলুদের হলুদ বাটছে সে।

Phool Pishi O Edward Teaser Unveiled, Nandita Roy and Shiboprosad Mukherjee Film
রহস্যে মোড়া ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এর নারী চরিত্ররা

‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ শীতল-রক্ত খুনের গল্প। এমন গল্পটা বলে দিয়ে গল্পটাকে নষ্ট করব না। বিরতি পর্যন্ত ছবিটা কিন্তু খুব মন দিয়ে দেখতে হবে। সামান্য শ্লথ গতিতে ছবি এগোয়। এবং নন্দিতা-শিবপ্রসাদ ধীরে ধীরে নারী চরিত্রদের মেলে ধরেন। এই প্রসঙ্গে অদিতির ভূমিকায় রাইমা সেনের মাধুর্যে আসি। যে দৃশ্যে লম্পট জমিদার স্বামী মনীন্দ্র চন্দ্রের (অর্জুন চক্রবর্তী) সঙ্গে নিজের বোনের বিয়ের গায়ে হলুদের হলুদ বাটছে সে। এবং কাঁদছে। রাইমা সম্বন্ধে প্রতিটি বাঙালি পুরুষের একটাই নালিশ। এতো সুন্দর কেন সে? এবং এ ছবিতে সে এই মাধুর্যের তলায় নিজেকে লুকিয়ে রাখতে এত ভালো অভিনয় করেছে, কী বলব! যে বোনের সঙ্গে রাইমা নিজের স্বামীর বিয়ের আয়োজন করছে চোখের জলে, সেই মেয়ের চরিত্রে আরও এক রূপসী। নবাগতা শ্যামৌপ্তি। ঠিক ঠিক পরিচালকের হাতে পড়লে এই নায়িকা তার চোখ, কপাল, ঠোঁট আর সাবলীল ভঙ্গির জোরে অনেক দূর যাবে। হয়তো নন্দিতা-শিবপ্রসাদ এক নতুন নায়িকা নিয়ে এলেন বাংলা সিনেমায়। লম্পট অথচ অক্ষম এবং প্রৌঢ় জমিদারের ভূমিকায় অর্জুন চক্রবর্তী অনেকদিন পরে মাতিয়ে দিয়েছেন। পুতুল বাই ( অনন্যা চ্যাটার্জি )- এর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের একটি দৃশ্যে অর্জুন অনবদ্য। অনেকদিন পরে অনন্যাকে দেখলাম। আগের মতই ভালো লাগলো। বাতের ব্যথা কষ্ট পাওয়া হাসি দেবীর চরিত্রে অনামিকা সাহা তো পাকা খেলোয়াড়। মুকুর্তের কাঁচা কাজ নেই। এবার আসি দুই যুবকের ভূমিকায়, সময় নন্দী (সৌম্য মুখার্জী) এবং রাজা (ঋষভ বসু )। দুজনেই দারুণ। ঋষভের সঙ্গে শ্যামৌপ্তি তো রাজজোটক! এবার নন্দীবাড়ির যোগেন্দ্রচন্দ্রের চরিত্রে সাহেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে: অন্য কাউকে ভাবতে পারছি না, সাহেবকে এতটাই মানিয়েছে। এবং এই চরিত্রটা খুব কমপ্লেক্স। কারণ সে একই সঙ্গে দুর্বল এবং অ্যাগ্রেসিভ। তার মানসিক দুর্বলতা লুকিয়ে আছে তার যৌন জীবনের অন্যায়ে। চরিত্রের এই উভয়বলয়তা সাহেব ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে।

আরও একটা কথা, ছবির শেষ দৃশ্যে হার্টথ্রব মিমি! দেখার মত দৃশ্য। মনে সত্যি গেঁথে গেল। আরও একটু দীর্ঘ করা যেত না কি দৃশ্যটা কে? মিমি কে যে বড্ড ভাল্লাগে !

পুতুল বাই ( অনন্যা চ্যাটার্জি )- এর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের একটি দৃশ্যে অর্জুন অনবদ্য।

এবার আসি কেন্দ্রীয় চরিত্রে, এই ছবির মিস মার্পেল (ইনি কে বলে দিতে হলে এই ছবি না দেখাই ভালো) সারাক্ষন উল বোনা সোহিনী সেনগুপ্ত। সোহিনী অনবদ্য, রিয়েলি সো। আর হবে নাই বা কেন? তার রক্তে তো অভিনয়। এবং তার বড় হয়ে ওঠা, সেও তো অভিনয় জগতের ও প্রণোদনার মধ্যে! সোহিনী সমস্ত ছবিটার হাল ধরে আছে। এবং সে শুধু এডওয়ার্ডকে খুঁজছে না। জানতে চায় কে খুন করলো লম্পট অক্ষম অনাচারী মনীন্দ্রকে? কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে তো বলেছে, স্বাভাবিক মৃত্যু? আরও একটা বড় প্রশ্ন, এই ছবির এতগুলি রূপবতী কি ধোয়া তুলসী পাতা ?
অনেক বলে দিয়েছি। আর বলছি না। ছবির শেষ দৃশ্য পর্যন্ত না দেখলে কিছুতেই বুঝতে পারবেন না, এই খুনের গোপনচারিণী কে? বা কারা ? এবং এডওয়ার্ড, সেই বা কে? আসলে? এবং সে দেখা দিয়েই মিলিয়ে যায় কেন? তবে তার শেষ হাসিটা মনে থাকে! আরও একটা কথা, ছবির শেষ দৃশ্যে হার্টথ্রব মিমি! দেখার মত দৃশ্য। মনে সত্যি গেঁথে গেল। আরও একটু দীর্ঘ করা যেত না কি দৃশ্যটা কে? মিমি কে যে বড্ড ভাল্লাগে !

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *