উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের (Nandigram Bypoll) আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী (Congress candidate) মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan arrested)। তবে জামিন পেলেন না তিনি। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ (Judicial custody) দিয়েছে হলদিয়া আদালত। এদিকে, আগামী সোমবার তাঁকে আরও একটি মামলায় কাঁথি আদালতে পেশ করা হবে বলে খবর।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ের একটি পুরোনো খুনের মামলায় মিলন প্রধানের নাম জড়িয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় খুন এবং অস্ত্র আইনে মোট চারটি মামলা ঝুলছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই মামলাগুলিতে এতদিন তিনি পলাতক ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকার একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শনিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাবের পর বিচারক তাঁর জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। এদিকে, প্রার্থীর গ্রেপ্তারি নিয়ে বিজেপি ও পুলিশ প্রশাসনকে নিশানা করেছে কংগ্রেস। হলদিয়া আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র তথা সচিব অজিতেশ পাণ্ডে বলেন, ‘পুলিশ আদালতে জানিয়েছে, ১৯ বছর ধরে নাকি মিলনকে পাওয়া পায়নি। কিন্তু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে পেয়ে গেল! কি অদ্ভুত না?’ যদিও পুলিশের দাবি, এই গ্রেপ্তারির পেছনে কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই। আইনসম্মতভাবেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিলন প্রধানকে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ঠিক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে প্রার্থীর এমন আইনি জটে আটকে পড়া দলের প্রচার কৌশলকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। প্রার্থী ছাড়াই কীভাবে এই লড়াইয়ে কোমর বেঁধে নামবে হাতশিবির, তা নিয়ে শুরু হয়েছে অন্তহীন রাজনৈতিক চর্চা। আগামী ৩ অক্টোবর পরবর্তী শুনানিতে আইনি স্বস্তি না মিললে জেলের অন্দরে বসেই যে তাঁকে ভোটের দিন গুনতে হবে, তা বলাই বাহুল্য।

