উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ শুক্রবার দুপুরে নৈহাটিতে নৃশংসভাবে খুন হলে এক তৃণমূল কর্মী। এদিন টোটোতে চেপে যাওয়ার সময় দুষ্কৃতীরা তার পথ আটকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম সন্তোষ যাদব। এদিন সন্ধ্যা নামতেই ফের উত্তপ্ত হয় নৈহাটি। এদিন বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের একটি কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে একের পর এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে নৈহাটির গৌরীপুরে টোটোতে চেপে ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলেন তৃণমূল কর্মী সন্তোষ যাদব। সেই সময় জনা কয়েক দুষ্কৃতী টোটো থামিয়ে প্রথমে ইট দিয়ে সন্তোষের মাথায় আঘাত করে। এরপর খুব সামনে থেকে সন্তোষকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপরেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, সন্তোষের হত্যার পিছনে হাত রয়েছে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের। এই ঘটনায় তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোর শুরু হয়। পালটা অর্জুনের দাবি, সন্তোষের হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। তাঁর বক্তব্য, সন্তোষ এবং হামলাকারী হিসেবে নাম উঠে আসা রাজেশের মধ্যে এলাকা দখলের লড়াইয়ে এই ঘটনা। দুজনেই তৃণমূল কর্মী।
এদিন সন্ধ্যা নামতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নৈহাটির গৌরীপুর সংলগ্ন এলাকা। সেখানে একের পর এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। গৌরীপুর জুটমিল লাইনে বিজেপি কর্মী কানাই সাউয়ের বাড়ি ভাঙচুর হয়। গড়িফার বিজেপি সমর্থক বিকাশ কুমার সিংয়ের এক অনুষ্ঠান বাড়িতে আগুন লাগানো ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কর্মী খুনে রোষ আছড়ে পড়ে বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের নির্বাচনী কার্যালয়ে। অগ্নিসংযোগ করার পাশাপাশি ভাঙচুরও চলে। এই মুহূর্তে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি রয়েছে সেখানে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও পরিস্থিতি এখনও আয়ত্তের বাইরে। যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে।
