নাগরাকাটা: দুর্বল ছিল আগে থেকেই। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে সেই কালভার্ট ভেসে গিয়েছে। যাতায়াতের একমাত্র পথে কালভার্টের এমন পরিস্থিতি হওয়ায় পড়ুয়ারা স্কুলে আসাই বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে, সেখানকার শিক্ষকরাই কিছু খুদেকে এক কোমর জল ডিঙিয়ে পিঠে করে স্কুলে নিয়ে আসছেন। ছুটির পর আবার একই কায়দায় ঝোরা পার করিয়ে দিচ্ছেন। অভিভাবকদের সবাই অবশ্য সন্তানদের এভাবে স্কুলে ছাড়ছেন না। যাতায়াতে স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম সমস্যায় পড়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। নাগরাকাটার (Nagrakata) বিডিও জয়প্রকাশ মণ্ডল বলেন, ‘সব কিছু খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।’
নয়া সাইলি চা বাগানের যে স্থানে কালভার্টটি ভেসে গিয়েছে, তার ১০০ মিটার দূরেই সরকারি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। মোট ৪০ জন সেখানে পড়াশোনা করে। প্রত্যেকেই শ্রমিক পরিবারের। কালভার্টের ওপারের এলাকা থেকেই সব পড়ুয়া স্কুলে আসে। বাড়ি লাইনকাটা ও ধীরা লাইনের মতো দুটি শ্রমিক মহল্লায়। গত মে মাসের গোড়ায় ওই কালভার্টটি প্রবল জলের তোড়ে ভেসে যায়। ১ জুন থেকে গরমের ছুটির পর স্কুল খুলতেই পড়ুয়ারা আর আসছে না। সেদিন মোটে ১২ জন এসেছিল। বুধবার ছয়জন হাজির হয়েছিল। সেটাও দুই সহ শিক্ষক সুস্তম মিঞ্জ ও স্যামুয়েল মুর্মু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের পিঠে করে ঝোরা পার করে নিয়ে আসার পর। নয়া সাইলি টিজি ওয়ান নামে ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ঊর্মিলা ভুজেল বলেন, ‘এখন সকালে স্কুল হচ্ছে। ভোরবেলা থেকেই বাচ্চারা ভেসে যাওয়া কালভার্টের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে। জল এখন এতটাই বেশি যে, ওদের পক্ষে স্কুলে আসা সম্ভব নয়। বেশিরভাগ অভিভাবকই সন্তানদের পাঠাচ্ছেন না।’
এদিকে, স্কুলটির পরিস্থিতিও বর্তমানে শোচনীয়। সেখানকার জরাজীর্ণ মূল ভবনটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় পঠনপাঠন করানো সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাগানের নিজস্ব একটি ক্যান্টিনকেই আপাতত ক্লাসঘর বানানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘এখানে দ্রুত একটি অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন। স্কুল ভবনের আমূল পরিবর্তনেরও প্রয়োজন রয়েছে। নয়তো পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে।’
The submit Nagrakata | শিক্ষার পথে বিপদের ঝোরা! পিঠে চড়ে স্কুলযাত্রা খুদেদের appeared first on Uttarbanga Sambad.
