নাগরাকাটা: বক্সায় আন্দোলনরত ১৮ টি বনবস্তির বাসিন্দাদের পাশে থেকে প্রয়োজনে আন্দোলন আরও দুর্বার করার কথা জানালো ডুয়ার্সের অন্য বনবস্তির বাসিন্দারাও। এদিনের এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, উত্তরবঙ্গের ২৫৫ টি বনবস্তির বাসিন্দারাই বক্সার আন্দোলনকারীদের পাশে রয়েছে। শুক্রবার নাগরাকাটার (Nagrakata) পানঝোড়া বনবস্তিতে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলনে নর্থ ইনডং সাউথ ইনডং, খুনিয়া, পানঝোড়া, শিবচুর মত বিভিন্ন বনবস্তির বাসিন্দারা (২০০৬ সালের আইন অনুযায়ী) বনবস্তির বাসিন্দাদের বন-এর (Forest) অধিকার প্রদানের দাবিতে ফের সোচ্চার হন। পুঁজিপুতিরা ও বনদপ্তর এমনটা চায় না বলেও এদিন অভিযোগ জানান তাঁরা। এর পাশাপাশি বক্সার জঙ্গলে ছাড়া বাঘিনীর দিন কয়েকের মধ্যেই অসমে চলে যাওয়ার বিষয়টি, সেখানে বংশ পরম্পরায় বসবাসকারী বনবস্তির বাসিন্দাদের সাথে পরামর্শ না করে শুধু ‘বিশেষজ্ঞ’দের কথা শুনে চলার খেসারৎ বলেও ‘তীর্যক’ মন্তব্য করেছেন ডুয়ার্সের ওই সব বনবস্তির বাসিন্দারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বক্সার (Buxa) জঙ্গলের ১৮ টি বনবস্তিকে অন্যত্র সরানোর জন্য সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও জয়ন্তী এলাকার ১২০ টি পরিবার তাঁদের জায়গা ছেড়ে যেতে চাইছে না। বেশ কিছুদিন ধরেই এই ইস্যুতে সেখানে ধর্ণা চলছে।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে নর্থ ইনডং বনবস্তির প্রতিনিধি মাধব রায় বলেন, “আগামী ১ তারিখ বক্সার বনবস্তিবাসীদের নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন একটি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে যদি সমস্যার সমাধান না হয় তবে তারপর দিন থেকেই উত্তরবঙ্গের ২৫৫ টি বনবস্তির বাসিন্দারা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবে। আমাদের দাবি বনবস্তির বাসিন্দাদের জমির পাট্টা সমস্যারও সমাধান করা হোক। প্রত্যেকে বক্সার সঙ্গে রয়েছে।”
শিফচু বনবস্তির এক বাসিন্দা শিবু সুনুয়ার বলেন, “বক্সার ১২০ টি পরিবারকে সেখান থেকে সরে যেতে বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। যদিও আইন মোতাবেক বনবস্তিবাসীরা একমাত্র স্বেচ্ছায় না সরে যেতে চাইলে তাঁদের ওপর কোনও জোরজবরদস্তি করা যায় না। আমরা আশা করছি সরকার মানুষের আবেগ বুঝতে পারবে।” এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “পর্যটনের প্রসার ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের দাবি আমাদেরও। তবে তা বনের বাসিন্দাদের উপেক্ষা করে নয়। বক্সার জঙ্গলে বাঘ ছাড়ার পরও কেন সেটি চলে গেল বন দপ্তরকে গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে। সেখানকার আদি বাসিন্দাদের সাথেও এব্যাপারে পরামর্শ করা উচিত ছিল। তাঁরা স্বল্পশিক্ষিত হলেও বনের বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের থেকে অনেক বেশি জানে বলেই আমাদের ধারণা। আইন তৈরি হলেও বন-এর অধিকার আজ পর্যন্ত গোটা উত্তরবঙ্গে কার্যকরী হয়নি। শুধুমাত্র কিছু বনবস্তিবাসীকে জমির অধিকার ও কমিউনিটি অধিকার দেওয়া ছাড়া।”
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সূর্য কুমার ছেত্রী, ডিকু লামা, কৃষ্ণা লামা, ভোলানাথ শর্মা, অনিল ছেত্রী, উমেশ শর্মা সুভাষ মঙ্গর, সুনীল ছেত্রীর মত বিভিন্ন বনবস্তির বাসিন্দারা।

