নাগরাকাটা: একদিকে চিতাবাঘ, অন্যদিকে বাইসন। বৃহস্পতিবার দুধরনের বুনোকে কেন্দ্র করে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠল ডুয়ার্সের দুটি স্থান। এদিন বিকেলে নাগরাকাটার (Nagrakata) সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্য খয়েরবাড়ির খয়েরডাঙ্গার একটি ছোট চা বাগানে চিতাবাঘের (leopard) হামলায় জখম হন ৬ জন। অন্যদিকে এদিন সকাল থেকে বানারহাটের (Banarhat) চা বাগান এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় ৪ টি বাইসন। এর মধ্যে দৌড়ৌদৌড়ির ধকল সইতে না পেরে একটি মারা যায়।
নাগরাকাটার ঘটনাটি যখন ঘটে তখন খয়েরডাঙ্গার চা বাগানে কয়েকজন আবু তালেব নামে এক ব্যক্তির ছোট চা বাগানে শিমুল গাছ কাটছিলেন। অতর্কিতে একটি চিতাবাঘ রূমন ইসলাম (২৪) নামে এক তরুণের ওপর হামলা চালিয়ে বসে। তাঁর মাথায় থাবা বসায় বুনোটি। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন আরিফ আলি (১৬) নামে আরেক তরুণ। সেও হামলার শিকার হয়। তাঁকেও হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে চিতাবাঘটি আসিদুল হক (১৮) নামে আরও এক তরুণের ওপর হামলা চালায়। কিছুক্ষণ এর মধ্যেই পরপর হামলার শিকার হয় বিনোদ মুন্ডা (২০) সঞ্জয় মুন্ডা (২৫), এবং মনজিত শৈব্য (৩৪)। তাঁদেরকেও সুলকাপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ লক্ষ্মীকান্ত ভাস্কর জানান, একমাত্র সঞ্জয় মুন্ডাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মালবাজার সুপার স্পেশালি্টি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এদিকে ঘটনার খবর পেতেই বনকর্মী ও পুলিশ গিয়ে জায়গাটিকে ঘিরে ফেলে। শুরু হয় বাজি পটকা ফাটানো। চিতাবাঘটির খোঁজে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশী চালানোর পরেও সেটিকে আর পাওয়া যায় নি। বন দপ্তরের অনুমান, বুনোটি লাগোয়া ডায়নার জঙ্গলে ঢুকে গিয়েছে।
অপরদিকে ৪ টি বাইসনের দাপাদাপিতে এদিন শোরগোল পড়ে যায় বানারহাটের লক্ষ্মীপাড়া বাগানে। এরপর আচমকাই একটি বাইসন স্টেশন লাগোয়া এলাকায় ঢুকে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন বন্দপ্তরের বন্যপ্রাণ শাখার বিন্নাগুড়ি রেঞ্জ, বানারহাট রেঞ্জ, বানারহাট থানার পুলিশ। এরপর লাগোয়া বানারহাট চা বাগান হয়ে পলাশবাড়ি ও রিয়াবাড়ি চা বাগানের দিকে চলে যেতে থাকে বুনোগুলি। এই ফাঁকে দুপুরের দিকে পলাশবাড়ি চা বাগানে একটি বাইসন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।তবে বাগানগুলিতে অবস্থিত শ্রমিক মহল্লার দিকে যায়নি বুনোগুলি। পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখে চলেন বনকর্মীরা। উৎসাহী জনতার অযাচিত ভিড়ও জমতে দেওয়া হয় নি কোথাও। ফলে কোনওরকমের কোনও বিপদ ঘটেনি।
