Nagrakata | ডলোমাইটের গ্রাসে দুই বাগান! বামনডাঙ্গার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ধুঁকছে সুভাষিণী

Nagrakata | ডলোমাইটের গ্রাসে দুই বাগান! বামনডাঙ্গার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ধুঁকছে সুভাষিণী

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: প্লাবনে বিধ্বস্ত দুই বাগান। নাগরাকাটার (Nagrakata) বামনডাঙ্গা-টন্ডু ৪ অক্টোবরের পর থেকে অচল। অন্যদিকে, কালচিনির সুভাষিণী চা বাগান চালু থাকলেও কতদিন টেনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, ভেবে কূল পাচ্ছেন না পরিচালকরা। রুটিরুজির জন্য বাগানের ওপর নির্ভরশীল আড়াই হাজারের বেশি শ্রমিক। বামনডাঙ্গা-টন্ডুর কর্ণধার ঋত্বিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘যা পরিস্থিতি, সরকারি সাহায্য না পেলে বাগান স্বাভাবিক করা অসম্ভব।’ অন্যদিকে, সুভাষিণীর ম্যানেজার শীর্ষেন্দু বিশ্বাসের কথায়, ‘বাগানের এক-তৃতীয়াংশ ডলোমাইট ও পলির পুরু আস্তরণে নষ্ট হয়েছে। চা চাষের জন্য মাটির অম্ল-ক্ষারের (পিএইচ) পরিমাণ ৪.৫ থেকে ৫.৫-এর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। পরীক্ষার পর দেখা যাচ্ছে, এই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮-এর কাছাকাছি। সাহায্য ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।’ এদিকে বিপদগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য সরকারি মাসিক অনুদান ‘ফাওলই’ চালুর কথা ভাবছে শ্রম দপ্তর। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, ‘কোনও বাগান ১ মাস বন্ধ থাকলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফাওলই চালুর নীতি নিয়েছেন। সেই হিসেবে আর কয়েকদিনের মধ্যে ১ মাস পার হবে। সেক্ষেত্রে ফাওলই চালুর ভাবনা থাকছেই। এছাড়া প্লাবনে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শনিবার নবান্নে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিশদে পর্যালোচনা  হবে।’

বামনডাঙ্গা-টন্ডুতে জলঢাকা শুধু একরের পর একর জমি গিলে খায়নি, সেখানে ঢোকার একমাত্র রাস্তায় গাঠিয়া নদীর ওপর টানাটানি সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের একাংশ এবং কালভার্ট ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। কাজ চালু হলে কয়লা ও চা বোঝাই লরি কীভাবে চলবে, প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে টন্ডু ডিভিশনের শ্রমিকরা উপায় না দেখে নদী পেরিয়ে অন্য বাগানে বিঘা বা অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যাচ্ছেন। জঙ্গলঘেরা ৬ কিলোমিটার দূরের বামনডাঙ্গার শ্রমিকদের পক্ষে তা অসম্ভব। তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি সঞ্জয় কুজুর বলেন, ‘কিছু সমস্যা রয়েছে। তবুও যাতে কাজ চালু হয়, মালিকপক্ষকে আবেদন করা হয়েছে।’ বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘১২ দিন পেরোলেও অ্যাপ্রোচ রোড ঠিক হল না। দ্রুত কাজ চালুর জন্য উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত শ্রম কমিশনারকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে তোর্ষার প্লাবনে সুভাষিণীতে চা গাছ সহ যে ৯২ হেক্টর জমি নষ্ট হয়েছে তা রাজ্য সরকার অধিগ্রহণ করুক। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে আর্জি জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের তরফে এই নিয়ে যৌথ সমীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং বাগানের প্রতিনিধিরা সেই দলে থাকবেন। সমীক্ষার পর প্রশাসনের কাছে রিপোর্ট যাবে। মালিকপক্ষের সংগঠন ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রামঅবতার শর্মা বলেন, ‘ডলোমাইট ও পলির আস্তরণে জমি চাষের অনুপযুক্ত হয়ে গিয়েছে। রাজ্য যদি অধিগ্রহণ করে তবে বাগানটি নির্দিষ্ট হারে ক্ষতিপূরণ পাবে। এতে কিছু সাহায্য হবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *