জলপাইগুড়ি: যত দূর পর্যন্ত দেখা যায় শুধু জল আর জল। গ্রামের বাড়িগুলো অর্ধেক ডুবে রয়েছে। একদিকে জলের শব্দ, অন্যদিকে মানুষের বাঁচার জন্য আর্তনাদ। এই পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র একটা লাইফজ্যাকেট আর দড়ির ভরসায় প্রায় ৪০ জন বিভিন্ন বয়সের মানুষকে কোলে তুলে তাঁদের বাড়ি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবক অজিত রায়। শুধু অজিত নন, ভয়াবহ প্লাবন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বাজি রেখে ছয়জন অন্তঃসত্ত্বাকে হাসপাতাল বা নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন নাগরাকাটা ব্লকের খেরকাটা গ্রামের আশাকর্মী সুমন লিন্ডা। ডুয়ার্সের সাম্প্রতিক প্লাবনে ভালো কাজ করার জন্য অজিত, সুমন সহ জলপাইগুড়ি জেলার ৪২ জনকে পুরস্কৃত করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার কলকাতার একটি কালীপুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি আটজনকে নগদ পুরস্কার এবং শংসাপত্র দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি ৩৪ জনকে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের পর জেলা প্রশাসনের তরফে পুরস্কার এবং শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
গত ৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন দপ্তর, দমকল বিভাগ থেকে শুরু করে সিভিল ডিফেন্স এবং আশাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে জেলার প্লাবন দুর্গতদের উদ্ধারে শামিল হয়েছিলেন। তাঁদের একজন আশাকর্মী নাগরাকাটা ব্লকের খেরকাটা বস্তির সুমন লিন্ডা। এদিন জেলা শাসকের দপ্তরে পুরস্কার নিতে এসে তিনি বললেন, ‘আর যেন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোথাও না হয়।’ ৫ অক্টোবর রাতে সুমনের কাছে ফোন আসে, তাঁরই গ্রামের গর্ভবতী শীলা খেড়িয়া প্রসবযন্ত্রণায় বাড়িতে ছটফট করছেন। একমুহূর্ত সময় নষ্ট না করে একটি গাড়িভাড়া করে তাঁকে তুলে নিয়ে হাজির হন টন্ডু পর্যন্ত। ওপার থেকে স্পিড বোটে গাঠিয়া নদী পেরিয়ে ততক্ষণে চলে এসেছেন নাগরাকাটার বিএমওএইচ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। শীলাকে তুলে নদী পার করে তাঁকে সুলকাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন আরও ৫ জন গর্ভবতীকে একইভাবে নদী পার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার টিমে ছিলেন সুমন।
দুধের শিশু থেকে শুরু করে ৯০ বছরের বৃদ্ধা সহ মোট প্রায় ৪০ জনকে ময়নাগুড়ির আমগুড়ি বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন অজিত রায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী এঁদের উদ্দেশে বলেন, ‘ওঁরা প্রত্যেকেই খুব ভালো কাজ করেছেন। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। ওঁদের কাজের তুলনা হয় না।’
