নাগরাকাটা: চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এবং বকেয়া ডাবলি সমস্যা সমাধানে বড়সড়ো ইঙ্গিত দিলেন নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা (Puna Bhengra)। মঙ্গলবার নাগরাকাটার (Nagrakata) আদিবাসী সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রে বিজেপি প্রভাবিত ‘ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ (BTWU)-এর একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, কেন্দ্র সরকারের শ্রম কোড শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গেও কার্যকর হতে চলেছে। আর এর ফলেই স্বাভাবিকভাবে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনে ডুয়ার্স (Dooars) ও তরাই অঞ্চলের চা বলয়ে বিজেপির (BJP) বিপুল জয়ের পর এটিই ছিল ওই সংগঠনের প্রথম বড় মাপের জনসমাবেশ। অনুষ্ঠানে ডুয়ার্স-তরাইয়ের প্রায় ২০০টি চা বাগানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিনের মঞ্চ থেকে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে জোরালো সওয়াল করেন শ্রমিক নেতারা। প্রসঙ্গত, ভোটের প্রচারে এসে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির রেশ টেনেই এদিন নতুন করে আশা দেখতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা।
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ডাবলি (নির্দিষ্ট টাস্কের অতিরিক্ত পাতা তোলার অতিরিক্ত পারিশ্রমিক) চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। ২০১৫ সালের ২০ মে সর্বশেষ ডাবলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। গত ১১ বছর ধরে নতুন কোনো চুক্তি না হওয়ায় শ্রমিকরা পুরোনো হারেই মজুরি পেয়ে আসছেন। বর্তমানে টাস্কের চেয়ে অতিরিক্ত পাতা তুললে নির্দিষ্ট পরিমাণে সামান্য অর্থ দেওয়া হয়, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অত্যন্ত কম। এছাড়া টাস্কের চেয়ে কম পাতা তুললে মজুরি কেটে নেওয়ার যে নিয়ম রয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠন।
সংগঠনের সভাপতি যুগল কিশোর ঝা জানান, শ্রমিকদের সমস্ত সমস্যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এবিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। অন্যদিকে, সংগঠনের সহ-সভাপতি অমরনাথ ঝা জানান, পুজোর আগেই কয়েকটি বন্ধ চা বাগান খোলার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সন্তোষ হাতি, রাজেশ বারলা, মনোজ ভুজেল সহ সংগঠনের অনান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। শ্রম কোড ও মজুরি বৃদ্ধির এই ইঙ্গিতের পর ডুয়ার্স-তরাইয়ের চা শিল্প মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

