শুভঙ্কর চক্রবর্তী
এবার প্রকাশ্যে এল স্বঘোষিত মহারাজ সেজে বসা নগেন্দ্র রায়ের আর এক কুকীর্তি (Nagendra Roy)। সরকারি খাতায় যে স্কুলের অস্তিত্বই নেই সেই স্কুলেই নাকি পড়াশোনা করেছিলেন নগেন্দ্র। রাজ্যসভার মনোনয়নপত্র পেশের সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন ওই বিজেপি সাংসদ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে অসমের সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল থেকে তিনি অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। অথচ তাজ্জবের বিষয় হল, অসম সরকার বলছে, বাস্তবে ওই নামের কোনও স্কুলই নেই। তাহলে অস্তিত্বহীন সেই স্কুল থেকে কীভাবে শংসাপত্র পেলেন নগেন্দ্র সেই প্রশ্ন উঠেছে (Pretend College Certificates Controversy)। নগেন্দ্রর বিরুদ্ধে হলফনামায় ভুয়ো তথ্য পেশের (Rajya Sabha affidavit) অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবী তথা অসমের ধুবড়ি ল’ কলেজের সহকারী অধ্যাপক উদয়নারায়ণ রায় প্রধানী। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চেয়ে শীঘ্রই তিনি আইনের দ্বারস্থ হবেন বলেই জানিয়েছেন উদয়নারায়ণ।
শুধু হলফনামা নিয়ে নয়, প্রশ্ন উঠেছে নগেন্দ্রর চাকরি নিয়েও। সূত্রের খবর, নগেন্দ্র কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (বর্তমানে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের অংশ)-এ চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মী হিসাবে চাকরি পেতে গেলেও নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন। নগেন্দ্র হলফনামায় উল্লেখ করা শংসাপত্র দিয়েই চাকরি পেয়েছিলেন কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি সেই শংসাপত্র দিয়েই নগেন্দ্র চাকরি পেয়ে থাকেন তাহলে তাঁর নিয়োগের বৈধতাও বড়সড়ো প্রশ্নের মুখে। উদয়নারায়ণের অভিযোগ, ‘সম্ভবত সরুপেটা স্কুলের ভুয়ো শংসাপত্র দিয়েই বেআইনিভাবে চাকরিতে ঢুকেছিলেন নগেন্দ্র। বিষয়টি নিয়ে আমি খুব তাড়াতাড়ি আইনি পদক্ষেপ করব। প্রয়োজনে মামলা করা হবে। গোটা বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার, অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছি।’ নগেন্দ্র অবশ্য এবিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর দিতে চাননি। এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান। তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের মারতে উদ্যত হন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হয় নগেন্দ্রকে। তবে তিনি ফোন ধরেননি।
সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল সম্পর্কে জানতে চেয়ে অসম সরকারের শিক্ষা দপ্তরে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন উদয়নারায়ণ। তার প্রেক্ষিতেই বরপেটার বিদ্যালয় পরিদর্শক রাতুলকুমার দাস স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেন, সংশ্লিষ্ট নামের কোনও স্কুলের অস্তিত্ব বাস্তবে নেই (মেমো নম্বর- বিডিসি/আরটিআই/২০২৩/৮৩/১০৩৫২)। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নগেন্দ্রর শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র নিয়ে আরও কয়েকটি অভিযোগ জমা হয়েছে অসম সেকেন্ডারি এডুকেশনের ডিরেক্টরের কাছে। পুনরায় বিষয়টি যাচাই করাও হয়েছে, তবুও সংশ্লিষ্ট নামের কোনও স্কুলের অস্তিত্ব মেলেনি। অসম শিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘গত এক বছরে সরুপেটা ইংলিশ হাইস্কুল নিয়ে তথ্য জানতে চেয়ে বেশকিছু আবেদন এসেছে। কয়েকটি অভিযোগও পেয়েছি আমরা। ওই স্কুলের নামে ভুয়ো শংসাপত্র বের করে সরকারি চাকরি করার মতো অভিযোগও আমাদের নজরে এসেছে। তার প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছ থেকে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে ওই নামের কোনও স্কুল নেই। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। কোনও জালিয়াতি হয়ে থাকলে তা পুলিশের মতো পারদর্শী দলই তদন্ত করে বের করতে পারবে।’
বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যালস কর্তৃপক্ষের কাছেও সম্প্রতি নগেন্দ্রর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা হয়েছে। তাঁর চাকরি নিয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে। সংস্থার কর্তারা অবশ্য বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। তবে তাদের দলের রাজ্যসভার সাংসদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠায় মহা বিপাকে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

