পরাগ মজুমদার,মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ডোমকলে চাঞ্চল্যকর পুলিশি অভিযান। ভিন রাজ্যের নারকোটিক বিভাগের জালে ধরা পড়লেন ডোমকল পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলী ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামী এনায়াতুল্লা মন্ডল ওরফে বাবলু। তবে নাটকীয়তা সেখানেই শেষ নয়; মাদক পাচারের পাণ্ডাকে ধরতে গিয়ে পুলিশের জালে উঠে এল ‘কেউটে’! ধরা পড়লেন খুনের মামলায় অভিযুক্ত এলাকার আর এক দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী রফিকুল ইসলামও। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া গ্রেপ্তারিতে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওডিশার (Odisha) নারকোটিক ডিপার্টমেন্টের একটি বড়সড় মাদক পাচার মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসে এনায়াতুল্লা মন্ডল বাবলুর। ওডিশা পুলিশের দাবি, ভিন রাজ্যে মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্কটি ডোমকল থেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন এই তৃণমূল নেত্রীর স্বামী। দীর্ঘ তদন্তের পর ওডিশা পুলিশের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ডোমকলে জাল বিছিয়ে বৃহস্পতিবার বাবলুকে পাকড়াও করে।
তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হতেই পুলিশের হাতে আসে আর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ হদিস পায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা রফিকুল ইসলামের। রফিকুল ডোমকলের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে খুন এবং বেআইনি অস্ত্র রাখার একাধিক পুরনো মামলা থাকলেও তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন। এদিন বাবলুর সঙ্গে তাঁকেও হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ।
ওড়িশা নারকোটিক বিভাগের আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে পৌঁছেছেন। মাদক পাচার চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে এনায়াতুল্লাকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জেরা করতে চান তাঁরা। সেই উদ্দেশ্যে ধৃতকে বহরমপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে।
