উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বঙ্গে বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরই তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র কোন্দল (TMC Inner Battle)। হারের চোট সামলানোর আগেই এবার দলের অন্দরের ‘মালিক-চাকর’ সংস্কৃতি নিয়ে তোপ দাগলেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ (Papiya Ghosh)। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
পাপিয়ার সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। গত পাঁচ বছরে দল কোনো সিস্টেমে চলেনি। দল চলেছে শুধু মালিক আর চাকরের সমীকরণে। আমাদের কাজ ছিল কেবল দাসের মতো নির্দেশ মেনে চলা।” উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের এই শোচনীয় ফলের জন্য দলের অন্দরে বেড়ে ওঠা সিন্ডিকেট-রাজ এবং নেতাদের দম্ভকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে নয়, বরং দলের দাম্ভিক ও অহংকারী নেতাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
এখানেই শেষ নয়, হারের পরেই ক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপ্যাক (I-PAC) পর্যন্ত। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতারা। নির্বাচনী কৌশলী সংস্থার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বক্তব্য, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিলেন না। সবটাই ওদের কথায় চলত। ফলে সংগঠনের মধ্যে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। আইপ্যাক এবং কিছু নেতার দম্ভ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তারা ভেবেছিল যেভাবে খুশি ভোট করানো যাবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়ি এবং কমিশনের কড়া নজরদারিতে সেই ছক আর খাটেনি।”
নির্বাচনী পর্যালোচনার আগে পাপিয়ার এই ‘বিদ্রোহ’ শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গের তৃণমূল রাজনীতিতে বড়সড়ো ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দলের ভেতরে যারা এতদিন কোণঠাসা ছিলেন, হারের পর তাঁরা একে একে মুখ খুলতে শুরু করায় চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।
