চোপড়া: রাজনীতির ময়দানে তারা যুযুধান পক্ষ হলেও, আদালতের কাঠগড়ায় আজ ছবিটা ছিল একেবারে ভিন্ন। চোপড়া (Chopra) থানা এলাকায় ২০১৮ সালের একটি পুরনো খুনের মামলায় বৃহস্পতিবার ইসলামপুর (Islampur) মহকুমা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এলাকার ৩৬ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আত্মসমর্পণকারীদের তালিকায় যেমন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন বাম ও কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতৃত্বও। তবে জামিনের আর্জি খারিজ করে বিচারক সকলকেই ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ইসলামপুর আদালত চত্বরে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়। দাপুটে নেতাদের আত্মসমর্পণ ঘিরে সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনা ছিল এলাকায়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যারা জেল হেপাজতে গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নামগুলি হলো:
- জিল্লুর রহমান: দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলী উপপ্রধান।
- অশোক রায়: প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
- বিদ্যুৎ তরফদার: সিপিএমের ২ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদক।
এছাড়াও এলাকার আরও বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত স্তরের নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই ৩৬ জনের তালিকায় রয়েছেন।
মামলাটির সূত্রপাত ২০১৮ সালে। দাসপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় খুনের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযুক্তদের পক্ষের আইনজীবী স্নেহাশিস দাস জানান, ওই মামলায় মোট ৫৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছিল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাঁরা আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিন আদালতে ৩৬ জনের পক্ষ থেকেই জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু ইসলামপুর আদালতের সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় ভাওয়াল জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেননি। সকলকেই ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী জানিয়েছেন, সামনেই আদালতের গরমের ছুটি। তার আগেই উচ্চতর আদালতে (হাইকোর্ট) জামিনের জন্য আবেদন জানানো হবে।
