পরাগ মজুমদার,মুর্শিদাবাদ: পেটের টানে ভিটেমাটি ছেড়ে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। চেন্নাই ও ওড়িশা—দেশের দুই প্রান্তে প্রাণ হারালেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) দুই পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Staff)। সোমবার এই মর্মান্তিক জোড়া মৃত্যুতে শোকের চাদরে ঢাকা পড়েছে জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জ।
জঙ্গিপুরের (Jangipur) মহম্মদপুরের বাসিন্দা রমিজ খান রাজমিস্ত্রির কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন চেন্নাইয়ে। একটি বহুতল নির্মাণের ঠিকাদারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন তিনি। সহকর্মীদের দাবি, এদিন সকালে কাজ শুরুর আগেই কর্মস্থলের অদূরে রমিজের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারের সদস্যদের মাথায়। কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে এই মৃত্যু ঘটল, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর ধোঁয়াশা।
অন্যদিকে, রঘুনাথগঞ্জের বাবর শেখ মাসখানেক আগেই ওড়িশায় গিয়েছিলেন শ্রমিকের কাজ নিয়ে।এদিন কর্মস্থলের কাছেই এক জনশূন্য স্থান থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ। পরিবারের দাবি, এলাকার অন্যান্যদের সঙ্গে কাজে গিয়ে এভাবে হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াটা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
পরিবারগুলোর দাবি, এঁরাই ছিলেন সংসারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য। আচমকা এই প্রাণহানির ফলে শুধু উপার্জনই বন্ধ হয়নি, অন্ধকারে ডুবে গেল পুরো পরিবার। স্বজনহারাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, “আমরা কল্পনাও করতে পারিনি আমাদের ঘরের মানুষটি আর জীবিত ফিরবে না। পুরো সংসারটা আজ ভেসে গেল।”
ভিন রাজ্যে বারবার বাংলার শ্রমিকদের এমন রহস্যজনক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী সংস্থা বা কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় স্তরে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত শোকাচ্ছন্ন দুই এলাকা।

