উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির বায়ু দূষণের (Delhi Air Air pollution) ছবিকে ছাপিয়ে এখন বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের (Mumbai smog) বাতাসের মান নিয়ে তৈরি হয়েছে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি। উৎসবের মরশুমে শহরের ক্রমবর্ধমান শব্দ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের চরম উদাসীনতা দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বম্বে হাইকোর্ট (Bombay Excessive Court docket)। বিচারপতি জি এস কুলকার্নি এবং বিচারপতি ডঃ নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে জানিয়েছে, নাগরিকদের ঘর থেকে বের হওয়ার আগে প্রতিদিন বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) দেখতে বাধ্য হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত মঙ্গলবারে শহরের দৃশ্যমানতা ৫০০ মিটারের নিচে নেমে যাওয়া এবং ধোঁয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে বিচারপতির সাফ প্রশ্ন ছিল, এই পরিস্থিতিতে আদতে কারোর কোনো হেলদোল আছে কি না!
আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের ফানুস বা আনন্দের জন্য বাজি পোড়ানো হলেও তার ফলে যে মারাত্মক বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশছে, তা সাধারণ মানুষের সুস্থ জীবনকে কঠিন করে তুলছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এবং ১৫ অক্টোবর বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া সত্ত্বেও ব্রহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) এবং মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (এমপিসিবি) মতো বিভাগগুলি প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করতেও সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি সাধারণ রাস্তায় বা ফুটপাতে বাজি না পোড়ানোর ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কোনো গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেনি প্রশাসন। নির্দিষ্ট অনুমতি ছাড়াই সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে মিছিল করা এবং ব্যস্ত রাস্তায় দেদার বাজি ফাটানোর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।
আইন অমান্যের এই প্রবণতা রুখতে মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনারকে সমস্ত থানার ইনচার্জদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (SOP) তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাধ্যতামূলকভাবে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি ২৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির আগে বিএমসি ও পুলিশ কমিশনারকে কমপ্লায়েন্স অ্যাফিডেভিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আদালত সতর্ক করেছে যে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বিঘ্নিত হলে বা পুলিশের তরফ থেকে কোনো রকম অবহেলা দেখা দিলে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে দেখা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে আদালত জনবহুল রাস্তায় সারা বছর বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সাইলেন্স জোনে এর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

