পুরুলিয়ার সরকারি হাসপাতালে আবর্জনার পাহাড়! সোজা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন ‘ক্ষুব্ধ’ বিজেপি সাংসদের

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যেন আবর্জনার পাহাড়! বুধবার দশমীর রাতে তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। হাসপাতাল ক্যাম্পাস জলে ভর্তি। সঙ্গে ভাসছে হাসপাতালের বর্জ্য পদার্থ। এমন ছবি দেখে সাংসদ প্রথমে হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপালকে ফোন করেন। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে জেলাশাসক, তারপর একেবারে সরাসরি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে ফোন করে এই অব্যবস্থার কথা জানান। মন্ত্রী সাহেব বলে সাংসদ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সাফাই কর্মীরা যদি এই আবর্জনা পরিষ্কার না করেন তাহলে তাঁকেই এই বর্জ্য সাফ করার কাজে নামতে হবে। কারণ সাধারণ মানুষ অনেক আশা করে মেডিক্যাল কলেজে আসেন। তাঁরা চিকিৎসা পরিষেবা পান বলেই বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। হাসপাতালের সুপারকে কালিম্পংয়ে বদলি করারও সুপারিশ করেন তিনি। আর এরপরই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্য দপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সাফাই কর্মীরা হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে ক্যাম্পাস পরিষ্কার করতে থাকেন। পুরসভার কর্মীরা বর্জ্য পদার্থ ফেলতে তৎপর হন। হাসপাতালের এই সমস্ত অব্যবস্থার সমাধানে দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাসকে। এদিন তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট কাম ভাইস প্রিন্সিপালের কার্যালয়ের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। সেই সময় কার্যালয় বন্ধ ছিল। জানা যায়, সুপার ছুটিতে গিয়েছেন। পুজোতে স্বাস্থ্য কর্মী, আধিকারিকদের ছুটি বাতিল হয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ছুটিতে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন:

জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অশোক বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে আউটলেটের সমস্যা। তাছাড়া জানলা থেকে রোগীরা নোংরা ফেলছেন। রোগীর আত্মীয়রা যেখানে সেখানে মল-মূত্র ত্যাগ করছেন। অথচ পাশেই সুলভ শৌচালয় রয়েছে। কিন্তু তা ব্যবহার করছেন না। এইসব পরিষ্কার করার জন্য পূর্ত দপ্তরের কাছে ফাইল গিয়েছিল। যাতে দ্রুত পরিষ্কার হয় সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষজনকেও সচেতন হতে হবে।” এরপরই ওই হাসপাতালে আসেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) উৎকর্ষ সিং। তিনি জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন।

প্রাক্তন এক দলীয় কর্মীর বাবা প্রয়াত হওয়ায় নেতৃত্বকে নিয়ে দশমীর রাতে ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। আর তারপরেই হাসপাতাল জুড়ে ওই অপরিচ্ছন্নতার ছবি চোখের সামনে দেখতে পান। যা দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে যান তিনি। হাসপাতালে গিয়ে সাংসদের তদারকি এবং মানুষজনকে উন্নততর পরিষেবা দিতে তাঁর ওই ভিডিও এখন ভাইরাল। রোগী থেকে তাঁদের পরিবার, আত্মীয়-পরিজন, জেলার মানুষ সকলেই সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর কড়া পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন। কারণ এই হাসপাতাল সেই বাম আমল থেকেই রীতিমতো আবর্জনার স্তূপ। তৃণমূল জমানার পর নতুন সরকারের আমলে এসেও সেই একই ছবি। কিন্তু এবার যে আর এসব বরদাস্ত করা হবে না তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো।

সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “আমি যেখানে যা ফোন করার করেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীকে বদনাম করার জন্য এখনও এমন কাজ চলছে। প্রয়োজনে আমরা সাফাই করব। স্বচ্ছ ভারতে এই কাজ আমরা করেই থাকি। যে সকল রোগীর আত্মীয় হাসপাতালের মধ্যে শুয়ে আছেন, তাদেরকে যাতে রেষ্ট রুমে থাকার ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়টিও আমি কর্তৃপক্ষকে বলেছি।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *