Mothabari | সম্প্রীতির সুর কাটবে না, কথা দিচ্ছে মোথাবাড়ি, গতবছরের ক্ষত ভুলে সজাগ প্রশাসন

Mothabari | সম্প্রীতির সুর কাটবে না, কথা দিচ্ছে মোথাবাড়ি, গতবছরের ক্ষত ভুলে সজাগ প্রশাসন

শিক্ষা
Spread the love


সেনাউল হক, মোথাবাড়ি: মোথাবাড়ি চৌরঙ্গি মোড়ে দাঁড়িয়ে পশ্চিমদিকে তাকালে দেখা যায় এক বিশাল বড় মসজিদ। তার সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল রাধাগোবিন্দ মন্দির। সন্ধ্যা হলেই মন্দিরে বেজে ওঠে ঘণ্টা। মসজিদে শোনা যায় আজান। বহু বছর ধরে এটাই মোথাবাড়ির (Mothabari) চেনা ছবি। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে একাকার। চৌরঙ্গি মোড়ে রাহুল পাল দোকান খোলেন মুসলিম গ্রাহকদের আশায়। আবার বাঙ্গিটোলায় মতিউর রহমান দোকান খোলেন হিন্দু গ্রাহকদের আশায়। এই সম্প্রীতির বন্ধনেই বেঁচে রয়েছেন মোথাবাড়ির আমজনতা।

গতবছর রামনবমীর (Ram Navami) সময় এই সম্প্রীতির সুর কেটেছিল বহিরাগত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে। ক্ষতিগ্রস্ত হন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা মোথাবাড়িতে। সেই আতঙ্কের কথা আজও ভোলেননি অনেকেই। সেদিন রামপুজোর প্রতিমা বিসর্জনে শোভাযাত্রা নিয়ে বেরিয়েছিলেন এলাকার ভক্তরা। চৌরঙ্গি এলাকায় মসজিদের সামনে নাকি প্রচণ্ড শব্দে ডিজে বাজিয়ে নাচ চলছিল। সেই সময় মসজিদে চলছিল রমজান মাসের তারাবির নমাজ। এই নিয়েই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বহিরাগত দুষ্কৃতীরা সেই সুযোগে হামলা চালাতে শুরু করে। তাদের রুখতে ব্যর্থ হয় পুলিশ প্রশাসন।

গত রবিবার থেকে শুরু হয়েছে রামপুজো। বুধবার রয়েছে রামের প্রতিমা বিসর্জন। ভোটের বাজারে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে গোটা রাজ্যেই। ধর্মীয় তাস খেলার রাজনীতিতে গোটা রাজ্যেই কয়েকবছর ধরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছেন মোথাবাড়ির আমজনতা। পুলিশ প্রশাসন কতটা সক্রিয়, তার পরীক্ষাও হবে বুধবার।

মোথাবাড়ি থানার ওসি শ্যামসুন্দর সাহা বলেন, ‘নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে। পাশাপাশি আধা-সামরিক বাহিনীও নামানো হয়েছে মোথাবাড়িতে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেইদিকে নজর রাখা হবে। বুধবার পুলিশ ও আধাসেনা সজাগ থাকবে।’

চৌরঙ্গি মোড়ের দোকানদার রাহুল বলেন, ‘আমার দোকানের ছাউনি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। যদিও আমার দোকান গোলমাল শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তারপর কয়েকদিন খুব আতঙ্কে দিন কেটেছিল। আমরা চাই না সেরকম ঘটনা আবার হোক। কারণ এতে সবারই ক্ষতি।’

তার পাশের দোকানি রঞ্জিত পাল বলেন, ‘ভেবেছিলাম বড় কিছু ঘটবে না। তাই দোকান খোলা ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে লোকজন বাড়তে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় ঝামেলা। চৌরঙ্গি এলাকার দোকানগুলিতে হামলা চালানো হয়। আমার দোকানের আলমারি সহ উপরের চালা ভেঙে দেওয়া হয়। তবে আমি দেখেছি যারা ভাঙচুর লুটপাট চালায় তারা বেশিরভাগই বহিরাগত ছিল। ঘটনার পর প্রায় সাতদিন দোকান বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়। তবে আশা করছি এরকম ঘটনা আর ঘটবে না। কারণ এলাকার মানুষ সকলেই এখন সজাগ।’

আলতাব শেখ নামে এক বাসিন্দার কথায়, ‘আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। এলাকার মানুষকেও সজাগ করা হয়েছে। কেউ যেন কোনও প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেন। নির্বাচন এগিয়ে আসছে। ভোটের তাগিদে অনেকেই ফাঁদ পাততে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’

কালিয়াচকের এসডিপিও ফয়সাল রাজা বলেন, ‘পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলেই আমরা মনে করছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *