Mothabari | দু’বছর আগের ভিডিও ভাইরাল করে বিপত্তি, প্রশ্নের মুখে মোথাবাড়ির স্কুল কর্তৃপক্ষ

Mothabari | দু’বছর আগের ভিডিও ভাইরাল করে বিপত্তি, প্রশ্নের মুখে মোথাবাড়ির স্কুল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


মোথাবাড়ি: দুই ছোট ছোট খুদে পড়ুয়ার স্কুলের মিড-ডে মিলের ভাত একই থালায় খাওয়ার ছবি এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। শিশুদের যে ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেটি মালদার মোথাবাড়ি নতুন চক্রের ওলিটোলা প্রাথমিক স্কুলের। ছবিটি পোস্ট করেছেন ওই স্কুলের এক শিক্ষক।

দুবছর আগের সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় প্রশ্নের মুখে মোথাবাড়ি নতুন চক্রের ওলিটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা যাচ্ছে, স্কুলের যে শিক্ষক এই ছবি পোস্ট করেছেন, তাঁকে ও  সহকারী স্কুল শিক্ষকের কাছ থেকে জবাব চাওয়া হবে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সার্কেল ইনস্পেকটরকে  দ্রুত তদন্ত করে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে শিক্ষা দপ্তর। স্কুলের শিক্ষকদের কাছে শিক্ষা দপ্তরের প্রশ্ন, এইভাবে কি দুই শিশু একসঙ্গে বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল খেতে পারে? তার থেকেও বড় কথা, কেন তাদের এভাবে একটি থালা দেওয়া হয়েছে ভাত খাওয়ার জন্য। একই থালায় এভাবে দুজন শিশুর খাওয়া অস্বাস্থ্যকর। বিষয়টি একেবারে ঠিক নয়। তাদের শরীর অসুস্থ হতে পারত। শুধুমাত্র সম্প্রীতির চিত্র তুলে ধরতে এই কাজ করা মোটেই সমীচীন নয় বলে মনে করেছে শিক্ষা দপ্তর। সেই কারণেই ওই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মালদা ডিআই(প্রাথমিক) মলয় মণ্ডলের বক্তব্য, ‘আমি সমাজমাধ্যম সূত্রে খবর পেয়ে গোটা বিষয়টি নিয়ে এসআই-এর কাছে জানতে চেয়েছি। শুনলাম ছেলেটি ওই বিদ্যালয়ের নয়। দুবছর আগের তৈরি ওই ভিডিও কোন উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল তা জানতে চেয়েছি। তাছাড়া আমাদের কোনও বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলে থালার অভাব নেই। দুটি শিশু একই থালায় খাচ্ছে, এটা অস্বাস্থ্যকর। এত ছোট বাচ্চা, যাদের এই সম্প্রীতির বোধ নেই তাদের দিয়ে এমনটা করানো উচিত হয়নি।’

এসআই অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডিআই আমার কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আমি বিষয়টি ওই বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষকের কাছ থেকে ফোনে জেনে রিপোর্ট করেছি। আপাতত ওই ছাত্রটি বাঙ্গীটোলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে ডিআইকে জানিয়েছি।’

এপ্রসঙ্গে শিক্ষক রবিউল ইসলামের বক্তব্য, ‘আমার ভিডিওটিই ভাইরাল হয়। এটি দুবছর আগের ভিডিও। বর্তমানে মোথাবাড়িতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ায় আমি ভিডিওটি রিপোস্ট করেছিলাম। দুই ছাত্রের বাবা-মায়ের অনুমতি নিয়েই সেটা করা হয়েছিল। আসলে সম্প্রতি মোথাবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে বার্তা দিতে চেয়েছিলাম, ধর্ম দিয়ে আমাদের পেট চলে না। তাই এই শিশুদের থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত যে হিন্দু-মুসলিমের এই বিভেদ কে করাচ্ছে। সম্প্রীতির বার্তা দিতেই এই ভিডিও করা হয়েছে।’

ওই দুই ছাত্র আপাতত বাঙ্গীটোলা হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান বাসন্তী বর্মন বলেন, ‘এসআইয়ের কাছ থেকে খোঁজ নেব। কেন হল এটা? এমন কাজের আগে অভিভাবকদের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া দরকার ছিল।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *