সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কানসাস সিটি: ‘ইন্ডিয়াতে মোহনবাগান বলে একটা ক্লাব আছে না?’- কানসাসের রাস্তায় অচেনা এক মার্কিন নাগরিকের মুখে এমন নিখুঁত উচ্চারণে নামটা শুনে চমকেই উঠেছিলাম। আমেরিকার অন্যান্য শহরে বিশ্বকাপের আসর বসলেও, স্থানীয়দের মধ্যে ফুটবল নিয়ে এক অদ্ভুত উদাসীনতা চোখে পড়েছিল। কিন্তু কানসাস সিটি একেবারেই ব্যতিক্রম। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই এখানে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্প। তাই গোটা শহরজুড়েই এক প্রাণবন্ত ফুটবল-উৎসবের মেজাজ (Mohun Bagan Pele Historical past)।
ডাউনটাউনের ফিফা ফ্যান পার্ক থেকে বাসে করে ওভারল্যান্ড পার্ক কনভেনশন সেন্টারে ফিরছিলাম। বাসের লাইনে অপেক্ষারত অবস্থায় আলাপ হল ক্রেগ ও লুকের সঙ্গে। ক্রেগ একসময় স্থানীয় সংবাদপত্রে কাজ করতেন, পরে জনসংযোগ আধিকারিক হিসেবে যুক্ত হন। আর লুক নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা, এমবিএ পড়ছেন। কথায় কথায় আমি ভারত থেকে এসেছি শুনেই ক্রেগের সেই অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন। বিস্ময় সামলে জানতে চাইলাম, এত দূরে বসে তিনি মোহনবাগানের নাম জানলেন কী করে! একগাল হেসে ক্রেগের উত্তর, ‘কেন, স্কুলে পড়েছি তো! পেলে যে ওই ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়েছিলেন, সেটাও জানি।’
পাশে দাঁড়ানো তরুণ লুকও সায় দিয়ে জানালেন, তাঁদের ‘সোশ্যাল সায়েন্স’ বা সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমে এই ইতিহাস পড়ানো হয়। শুধু ফুটবল নয়, ভারতের এক প্রখ্যাত মহিলা নেত্রীর কথাও তাঁদের বেশ জানা, যার বর্ণনায় স্পষ্টতই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাই উঠে এল। ফুটবল যে কীভাবে হাজার হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব ঘুচিয়ে দুটো ভিন্ন সংস্কৃতিকে এক সুতোয় বেঁধে ফেলে, কানসাসের এই ছোট্ট বাস স্টপ যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে রইল।

