অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি: গত বছর গণ অভ্যুত্থানের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ওপার বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও সে অর্থে স্বাভাবিক নয়। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী মিতালি এক্সপ্রেস (Mitali Categorical) সহ হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে পণ্যবাহী ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে হলদিবাড়ি স্টেশন থেকে আন্তর্দেশীয় ট্রেন চলাচল করে না। খালপাড়ার আন্তর্জাতিক রেলগেটও বন্ধ হয়েছে।
সূত্রের খবর, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে পুনরায় ট্রেন চলাচলে আগ্রহী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রেলওয়ের তরফে দুই দফায় ভারত সরকারকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানা যাচ্ছে। কারণ নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চায় না। এবার ফের একবার ভারতকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
আগামী বছর মার্চে ঢাকায় ৩৮তম আন্তঃসরকার রেলওয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবার কথা। যদিও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। ওই সভায় দুই দেশের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলদিবাড়ির স্টেশনমাস্টার সত্যজিৎ তিওয়ারি বলেন, ‘বাংলাদেশ ওই রুটে ট্রেন চলাচলে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে শুনেছি। কিন্তু চিলাহাটি স্টেশন থেকে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের দপ্তর তো তুলে নেওয়া হয়েছে।’
১৭ ডিসেম্বর, ২০২০। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটে ৫৭ বছর পর পুনরায় ট্রেন যাত্রার সূচনা করেন। বাংলাদেশ খনিজ তেল, পাথর ও সিমেন্ট আমদানির জন্য ওই রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে আগ্রহী হয়। এনজেপি ও রাঙ্গাপানি থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে মাত্র ১০০ কিলোমিটার অতিক্রম করলে ওপারের পার্বতীপুরে পৌঁছানো যেত। কিন্তু এখন প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ ঘুরে মালদা হয়ে তেল আমদানি করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
হলদিবাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানিতে সময় ও খরচ দুই-ই সাশ্রয় হত।’ ব্যবসায়ী দিগ্বিজয় সরকারের কথায়, ‘বাংলাদেশ থেকে নেপাল, ভুটান সহ ভারতের সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও ব্যবসা বৃদ্ধির পথ খুলেছিল।’
