ডালখোলা: ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু উত্তর দিনাজপুরের (Uttar Dinajpur) চাকুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Employee Demise)। মৃতের নাম সামসাদ আলম (২১)। বাড়ি গোয়ালপোখর-২ ব্লকের সূর্যাপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কোনাল গ্রামে। গত ১ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে (Pune)। শনিবার তাঁর কফিনবন্দি দেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
মৃতের পরিবারের সূত্রে জানা গিয়েছে, চার মাস আগে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে কেরলে গিয়েছিলেন সামসাদ। কিন্তু বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা ঠিকাদার সেকেন্দার আলি তাঁকে কাজের জন্য কেরল থেকে পুনেতে যেতে বলেন। ঠিকাদারের কথায় তিনি পুনেতে গিয়ে কাজও শুরু করেন। তবে অভিযোগ, তিন মাস লাগাতার কাজের পরেও ঠিকাদার তাঁর পাওনা মেটাননি। এই নিয়েই ঠিকাদারের সঙ্গে বচসা বাঁধে বলে দাবি মৃত তরুণের বাবা মেহের আলির।
তিনি জানান, ওই একই জায়গায় কাজ করতেন তাঁর ভগ্নিপতি নুরুল হক। ঘটনার দিন সামসাদ কাজে না গেলেও নুরুল তিন কিলোমিটার দূরে কাজে গিয়েছিলেন। কাজ থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন সামসাদ গলায় গামছা বেঁধে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ছেলে আত্মহত্যা করেছেন তা মানতে নারাজ মেহের আলি। তাঁর দাবি, ঠিকাদারই ছেলেকে লোহার রড দিয়ে মেরে খুন করেছে। শীঘ্রই বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। সামসাদের খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। কান্নাভেজা গলায় একই দাবি জানিয়েছেন সামসাদের মা-ও।
সামসাদের প্রতিবেশী তথা সহকর্মী ইজাহার আশরফও এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সামসাদের দেহ মাটিতে রাখা। পাশেই রয়েছে লোহার রড। সম্ভবত টাকাপয়সা নিয়ে বচসার সময় লোহার রডের আঘতেই সামসাদের মৃত্যু হয়েছে।’
এদিকে, দেহ ময়নাতদন্তের পরেই গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে খের থানার পুলিশ। অন্যদিকে, বারবার ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন সিপিএমের নেতা অমর বিশ্বাস। সেই সঙ্গে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
