সামসী: পেটের তাগিদে ঘর ছেড়েছিলেন মাত্র কয়েকদিন আগে। কিন্তু সেই যাওয়াই যে শেষ যাওয়া হবে, তা ভাবেনি কেউ। অন্ধ্রপ্রদেশে কাজ করতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো চাঁচল-২ ব্লকের (Chanchal) রানীগঞ্জ নয়াটোলার বাসিন্দা কৃষ্ণ ঘোষের (৩৬) (Migrant Employee)। শুক্রবার বিকেলে তাঁর কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার রাজমিস্ত্রির কাজ করতে অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন কৃষ্ণ। বুধবার কাজ শেষে রাতে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘরে রয়ে গিয়েছেন বৃদ্ধ প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী মমতা ঘোষ ও ১২ বছরের নাবালিকা কন্যা শ্রুতি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী কৃষ্ণর মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন অথৈ জলে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত কুমার মন্ডল জানান, কৃষ্ণের ছোট ভাই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ। ফলে বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পুরো দায়িত্ব ছিল কৃষ্ণের কাঁধেই। নিজের বলতে কয়েক কাঠা ভিটে ছাড়া আর কিছুই নেই। শুক্রবার আকাশপথে মরদেহ বাগডোগরা হয়ে গ্রামে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য না মেলায় পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।
যদিও এই মর্মান্তিক ঘটনায় চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারটি যাতে দ্রুত সমস্ত সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।”
