Meta Paid Subscription | এবার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ করতেও লাগবে টাকা! গ্রাহকদের পকেট কাটতে ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশন আনলেন জুকারবার্গ  

Meta Paid Subscription | এবার ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ করতেও লাগবে টাকা! গ্রাহকদের পকেট কাটতে ‘প্লাস’ সাবস্ক্রিপশন আনলেন জুকারবার্গ  

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নিখরচায় হাতের মুঠোয় পৃথিবী, চেনা-অচেনা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কিংবা অফিসের জরুরি মিটিং—ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রামের দৌলতে এই সবকিছুই এতদিন ছিল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই বিনামূল্যে বিশ্ব নাগরিক হওয়ার সুযোগ মিলত মেটার (Meta Paid Subscription) এই জনপ্রিয় অ্যাপগুলিতে। তবে এবার সেই অভ্যাসে বড়সড় বদল আনতে চলেছে ধনকুবের মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। এবার থেকে এই পরিষেবাগুলি ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীদের পকেটের কড়ি খসাতে হবে।

চালু হলো মেটার পেইডসাবস্ক্রিপশন প্ল্যান

ব্যবসায়িক মডেলে বড় পরিবর্তন এনে মেটা চালু করেছে তাদের প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান— Fb Plus, Instagram Plus এবং WhatsApp Plus

  • মাসিক খরচ: প্রতিটি পরিষেবার জন্য গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৯৯ টাকা করে দিতে হবে।
  • ভারতীয়দের জন্য অফার: ভারতের বাজারে পা রেখেই মেটা আকর্ষণীয় অফার দিচ্ছে। প্রথম ৬ মাসের জন্য ভারতীয় ব্যবহারকারীরা এই প্ল্যানগুলিতে পাবেন ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বা ছাড়।
  • পাওয়ার ইউজার ও এআই টিয়ার্স: সাধারণ ব্যবহারকারী ছাড়াও ক্রিয়েটর ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য মেটা এনেছে অ্যাডভান্সড এআই চ্যাটবট (AI Chatbot)। এছাড়া মেটা নিয়ে এসেছে উচ্চ প্রযুক্তির ‘মেটা ওয়ান প্লাস’ (মাসিক ৭৭৫ টাকা) এবং ‘মেটা ওয়ান প্রিমিয়াম’ (মাসিক ১৯৩৯ টাকা) প্ল্যান, যার মাধ্যমে অত্যাধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা পাওয়া যাবে।

মেটা-র হেড অফ প্রোডাক্ট নেওমি গ্লেইটের দাবি, বিশ্বজুড়ে দৈনিক ৩৫০ কোটি মেটা ব্যবহারকারীকে আরও উন্নত ও মজাদার ফিচার্স উপহার দিতেই এই সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার সূচনা।

কেন হঠাৎ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জুকারবার্গের?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পেইড মডেলের পেছনে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর পেছনে মেটার বিপুল খরচ। ওপেনএআই বা গুগলের মতো প্রতিদ্বন্দীদের তুলনায় এআই রেসে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে মরিয়া মেটা। সম্প্রতি তারা প্রায় ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ‘Scale AI’-এর প্রতিষ্ঠাতা আলেকজান্ডার ওয়াংকে নিজেদের ‘Superintelligence Lab’-এর দায়িত্ব দিয়েছে।

এআই পরিকাঠামো, চিপসেট এবং ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য ২০২৬ সালে নিজেদের বাজেট ১২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ১৪৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গিয়েছে মেটা। বর্তমান বাজারে বিজ্ঞাপন থেকে আগের মতো আয় না হওয়ায়, এই বিপুল খরচের টাকা তুলতেই গ্রাহকদের ওপর সাবস্ক্রিপশনের বোঝা চাপানো হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

রিলায়্যান্সের সাথে চুক্তি: গুজরাটের জামনগরে তৈরি হচ্ছে মেটার ডেটা সেন্টার

আমেরিকার বাইরে ভারতের বাজারকে পাখির চোখ করেছে মেটা। ভারতে নিজেদের এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তুলতে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের (Reliance Industries) সঙ্গে বড়সড় চুক্তি করেছে মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা। গুজরাতের জামনগরে তৈরি হতে চলেছে মেটার এই অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টারটি।

ভবিষ্যতের আয়ের খতিয়ান: এই বিপুল বিনিয়োগের সুফল মিলবে কি না তা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মনে সন্দেহ থাকলেও, আর্থিক পূর্বাভাস কিন্তু ইতিবাচক। ‘Deutsche Financial institution’-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদপত্র ‘The Wall Avenue Journal’ জানিয়েছে, আগামী বছরই সাবস্ক্রিপশন থেকে ১৫.৬ বিলিয়ন ডলার আয় হতে পারে মেটার। অন্যদিকে ‘Truist Securities’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে সাবস্ক্রিপশন মডেল থেকে মেটার ঘরে আসতে পারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *